৫ আষাঢ় ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / কৃষি বিষয়ক / হত দরিদ্র থেকে বেদেনা চাষে লাখপতি রাব্বুল

হত দরিদ্র থেকে বেদেনা চাষে লাখপতি রাব্বুল

বেদেনা-চাষিt

ইলিয়াস আরাফাত, স্টাফ রিপোর্টার : চা বিক্রেতা রাব্বুল। বাড়ী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভোলাহাট উপজেলার গোহালবাড়ীর কালিতলায় গ্রামে। নিজের কোন জায়গা-জমি না থাকায় শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করেন রাব্বুল। অভাবের সংসারে ২ ছেলে ১ মেয়ে।

কালিতলায় এক চায়ের দোকান দিয়ে কোন রকম সংসার চালাতেন। এক সময় বাজার থেকে ১টি উন্নত জাতের বেদানার গাছ কিনে শ্বশুর বাড়ির আঙ্গিনায় রোপন করেন। গাছটি বড় হয়ে উঠে। ফলও ধরে। এ গাছ দেখে তার মনে বেদানা চাষ করার স্বপ্ন জাগে।

২০১৩ সালে তার লাগানো এ একটি গাছ থেকে কাটিং করে ১৬টি চারা তৈরি করেন। অন্যের ১০ কাঠা জমি লিজ নিয়ে চারাগুলো রোপন করেন। এখান থেকে ভালো ফলন পাওয়ায় রাব্বানি এ বাগান থেকে আবারও ৩০০ চারা তৈরি করেন। এবার ১ বিঘা জমি লিজ নিয়ে চারা রোপন করেন।

অভাবের সংসার চালাতে হিমসিম খাওয়ায় সংসারের সকল সদস্য নিয়ে চলে যান ঢাকায়। সেখানে গিয়ে জীবনযুদ্ধ শুরু করেন। প্রথমে ভ্যান চালিয়ে সংসার চালান। ভ্যান চালানোর আয় থেকে বেদানার বাগানে সার কীটনাশকসহ যাবতিয় খরচ চালাতে থাকেন। পরে তিনি ২ ছেলেকে নিয়ে একটি চায়ের দোকান ভাড়া নিয়ে চা বিক্রয়ের ব্যবসা শুরু করেন। সে চায়ের দোকানের আয় ও ভোলাহাটের এনজিও সংস্থার কাছ থেকে নেয়া লোনের টাকায় বেদানা চাষ অব্যহত রেখেছেন। কোন সময় তিনি নিজে আবার কোন সময় ছেলেদের পাঠিয়ে বেদেনা বাগানের যত্ন নেন।

তিনি বলেন, টিভিতে চাষ আবাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে তিনি বেদানা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেন। বেদানা বাগানে কখন কি প্রয়োজন বন্ধুদের মাধ্যমে ইউটিউবে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন। নিজের কৌশলে বাগানের পরিচর্চা করে থাকেন।

তিনি বলেন, ১ বিঘা জমিতে বেদানা চাষ করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। বেদানার বাগান থেকে আয় করেছেন সাড়ে ৭ লাখ টাকা। চারা বিক্রয় করেছেন প্রায় ৬০ লাখ টাকার। ঢাকায় তার বাসার ৫তলা খুপড়ি ছাদে বিভিন্ন জাতের কাঠ লিচু, বেদানা, চেরিফল, ক্যাপসিক্যাসসহ নানা গাছ টবে লাগিয়েছেন।

বেদেনা

রাব্বুল বলেন, বিদেশ থেকে বেদানা আমদানি করতে হয়। কিন্তু এর চাষ দেশেই করা সম্ভব। এতে দেশের মানুষ কম দামে বেদানা কেনার সুযোগ পাবে। বাংলাদেশ সোনার বাংলা। এদেশের আবহাওয়া বেদানা চাষের উপযোগী। দেশের মাটিতে সব ফসল ফলানো সম্ভব বলে দাবি তার।

বেদানা চাষে আগ্রহের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আম চাষ করে যে আয় হবে তার থেকে বেদানায় আয় বেশি হবে।

রাব্বুল বলেন, খুব দ্রুত ভোলাহাট উপজেলার প্রায় ৭৪ হাজার ভোটারের মাঝে ১টি করে তার বেদানার চারা বিনামূল্যে প্রদান করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বেদেনা চাষের জন্য সরকারি পৃষ্টপোষকতার প্রয়োজন।

ফার্মসঅ্যান্ডফার্মার২৪ডটকম/মোমিন

আরও পড়ুন...

মিষ্টি-কুমড়া

মিষ্টি কুমড়া দিয়ে যেসব ফাস্টফুড জাতীয় খাবার তৈরি করা যায়

আমাদের দেশে সাধারণত মিষ্টি কুমড়ার কচি কাণ্ড, ঢগা এবং কুমড়া সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। বিভিন্ন …