৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ রবিবার ২১ জুলাই ২০১৯
সদ্যপ্রাপ্ত সংবাদ »
Home / পোল্ট্রি বিষয়ক / এবারও হতাশ পোল্ট্রি শিল্প: পণ্য আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবি

এবারও হতাশ পোল্ট্রি শিল্প: পণ্য আমদানিতে অগ্রিম কর প্রত্যাহারের দাবি

002

ঢাকা: বিগত বছরের মত এবারও আশা ভঙ্গ হয়েছে পোল্ট্রি খামারি ও উদ্যোক্তাদের। পোল্ট্রি ফিডের অত্যাবশ্যকীয় কাঁচামাল ‘ভুট্টা’ আমদানিতে অগ্রিম আয়কর এবং ‘সয়াবিন অয়েল কেক’ এর ওপর থেকে রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার না হওয়ায় এবং সব ধরনের পণ্য আমদানিতে নতুনভাবে আগাম কর (এ.টি) আরোপ হওয়ায় চরম হতাশা এখন পোল্ট্রি শিল্পে।

বুধবার (১৯ জুন) মহাখালিতে অবস্থিত প্যারাগন হাউসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে পোল্ট্রি নেতারা বলেন, উৎপাদন খরচ কমিয়ে দেশীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানি বাজারে প্রবেশের যে স্বপ্ন তাঁরা দেখছিলেন প্রস্তাবিত বাজেটে তা পূরণ হয়নি। ফিড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (ফিআব) এবং ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (বিএবি) যৌথভাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

ফিআব সভাপতি এহতেশাম বি. শাহজাহান বলেন, সয়াবিন অয়েল কেক এর ওপর আরোপিত ৫% রেগুলেটরি ডিউটি; কটন সিড ও পাম নাটসের ওপর থেকে ৫% সিডি ও ৫% এটিভি; এবং ভুট্টার ওপর থেকে ৫% এআইটি প্রত্যাহারই ছিল এবারের অন্যতম দাবি। আশা করা হয়েছিল এ দাবি পূরণ হলে পোল্ট্রি ফিড এবং সেই সাথে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির উৎপাদন খরচ কিছুটা কমবে।

তিনি বলেন, সয়াবিন অয়েল কেক আমদানিতে  আরডি এবং ভুট্টা আমদানিতে এআইটি বহাল রাখা হয়েছে; পাম নাটস বা কারনেল এবং কটন সিডের ওপর থেকে কাস্টমস শুল্ক তুলে নিয়ে নতুন করে ৫% হারে রেগুলেটরি ডিউটি আরোপ করা হয়েছে।

001

এহতেশাম বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ফিডের উপকরণ হিসেবে যে ৩টি উপকরণে কর ও শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা দেয়া হয়েছে {১. অ্যামোনিয়া বাইন্ডার, ২. লিভার প্রটেকটর, রেনাল প্রটেকটর, রেসপিরেটরি প্রটেকটর, এবং ৩. ভ্যাকসিন স্ট্যাবিলাইজার (থিওসাফফেট)}সেগুলোর সাথে ফিড ইন্ডাস্ট্রির কোন সম্পর্ক নেই। ফলে কার্যত তেমন কোন সুফল আসবে না। তবে বিদ্যমান সুবিধাদি বহাল রাখা এবং রাইস ব্রান এর রপ্তানি শুল্ক বৃদ্ধির প্রস্তাবে সন্তোষ প্রকাশ করেন ফিআব সাধারণ সম্পাদক মো. আহসানুজ্জামান। একই সাথে ডি-অয়েলড রাইস ব্রান (ডিওআরবি) এর ওপরও সমহারে শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তিনি। তাঁর মতে, যেহেতু এ দু’টি উপকরণ মূলত একই পণ্য তাই শুল্ক সমান না হলে এক পণ্যের নামে অন্য পণ্য রপ্তানি করে মুনাফা লুটার চেষ্টা করবে সুযোগ সন্ধানীরা। তবে সবকিছু ছাড়িয়ে সরকারের নতুন একটি সিদ্ধান্ত মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন আহসানুজ্জামান।

এ সিদ্ধান্ত মতে সব ধরনের পণ্য আমদানিতে এখন থেকে ৫ শতাংশ হারে আগাম কর (এ.টি) প্রদান করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে ব্রিডার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএবি) সভাপতি রকিবুর রহমান টুটুল বলেন, অর্থ বিল ২০১৯ এর ৭১ নম্বর অনুচ্ছেদে ২০১২ সনের ৪৭ নং আইনের ধারা ৩১ এর সংশোধন করে সকল আমদানিকৃত পণ্য সরবরাহের ওপর ৫% হারে আগাম কর (অঞ) ধার্য্য করা হয়েছে। এসআরও নং ১৭২-আইন/২০১৯/২৯-মূসক তারিখ ১৩ জুন ২০১৯ মূলে এই আগাম কর (অঞ) ধার্য্য করা হয়েছে যা পোল্ট্রি খাতের ওপর প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, পোল্ট্রিখাত মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে অব্যহতি পাওয়ার কারণে হ্রাসকৃত অর্থ সমন্বয়েরও কোন সুযোগ নেই। তাই এ বিধান প্রযোজ্য হলে একদিন বয়সী জিপি/পিএস বাচ্চা, যন্ত্রপাতি ও কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে বিরূপ প্রভাব পড়বে। বিপুল পরিমাণ অর্থ অগ্রিম কর হিসেবে কর্তন করা হবে। ফলশ্রুতিতে বাচ্চার উৎপাদন কার্যক্রমে চলতি মূলধনের সংকট সৃষ্টি হবে। সর্বোপরি পোল্ট্রির ডিম ও মাংস উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই সার্বিকভাবে পোল্ট্রি খাতের জন্য এ বিধান রহিত করার অনুরোধ জানান জনাব টুটুল।

বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিলের (বিপিআইসিসি) সভাপতি মসিউর রহমান বলেন, জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপনের পর থেকেই ‘পোল্ট্রি ফিডের দাম কমবে’ বলে গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হচ্ছে এতে সাধারণ খামারিরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। গতকাল ১৮ জুন প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে ‘পোল্ট্রি গবেষণা ও উন্নয়ন জোরদারকরণ প্রকল্পে’ অর্থ বরাদ্দ দেয়ায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান জনাব মসিউর।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়- আয়করের সমতার নীতি অনুসরণের লক্ষ্যে উৎপাদনমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল সংগ্রহের উপর ‘উৎস আয়কর’ কর্তনের বিধান পুণঃসংযোজন করা হয়েছে। এ বিধানটি কার্যকর হলে দেশীয় উৎস থেকে সংগৃহীত পোল্ট্রি ফিড তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ যেমন ভুটা, রাইস ব্রানসহ বিভিন্ন উপকরণ ক্রয়ে ২ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত ‘উৎস কর’ কর্তন করতে হবে। এতে পোল্ট্রি ফিডের উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে, যা সামগ্রিকভাবে পোল্ট্রি’র উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেবে।

পোল্ট্রি সংশ্লিষ্টরা বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে পোল্ট্রি খাতের উন্নয়ন এবং ডিম ও মুরগির মাংসের উৎপাদন খরচ কমিয়ে আনতে বাজেটে প্রয়োজনীয় সহায়তার জন্য সরকারের বিভিন্ন মহলে অনুরোধ জানিয়ে আসছেন তাঁরা। একই সাথে তাঁদের দাবির যৌক্তিকতাও উপস্থাপন করে আসছেন কিন্তু কার্যত তেমন কোন সুফল পাচ্ছেন না। গত মে মাসে “কৃষির বাজেট কৃষকের বাজেট” অনুষ্ঠানে মাননীয় অর্থমন্ত্রী ‘পোল্ট্রি বীমা’ চালু’র আশ্বাস দিলেও বাজেটে তার প্রতিফলন নেই। সাশ্রয়ী মূল্যের ডিম ও মুরগির মাংসের যোগান নিরবচ্ছিন্ন রাখতে এবং প্রতিযোগিতামূলক রপ্তানি বাজারে বাংলাদেশি পোল্ট্রি পণ্যের প্রবেশ সহজতর করতে পোল্ট্রি শিল্পের যৌক্তিক দাবিগুলো পুনর্বিবেচনার দাবি জানান পোল্ট্রি সংশ্লিষ্টরা।

ফার্মসঅ্যান্ডফার্মার২৪ডটকম/মোমিন

আরও পড়ুন...

নৌবা০িনী

‘জাতীয় মৎস্য পুরস্কার ২০১৯’ স্বর্ণপদক পেলো নৌবাহিনী

দেশের মৎস্য সম্পদ উন্নয়ন ও সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ ব্যবস্থাপনায় অবদানের জন্য ‘জাতীয় মৎস্য পুরস্কার ২০১৯’ …