কদবেলের পুষ্টিগুণ

17

কদবেল অতি পরিচিত দেশীয় ফল। এটি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ সুস্বাদু ফল। টক স্বাদযুক্ত ফলটি সব বয়সের মানুষের কাছে প্রিয়। মৌসুমি ফল হিসেবে এর জুড়ি মেলা ভার। এর খোলস শক্ত ও খসখসে। কদবেলের গাছ বেলগাছের মতো চারদিকে শাখা-প্রশাখাবিশিষ্ট, কাঠ শক্ত ও পাতাঝরা বৃক্ষ। পাতা আকৃতিতে কামিনি ফুলের পাতার মতো। গাছে ছোট কাঁটা থাকে। এ বৃক্ষের পাতা, ফল, ছাল ও শাঁস ঔষধি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আচার ও চাটনি বানিয়ে কিংবা মাখিয়ে কদবেল খাওয়া যায়। এই ফল কেবল মুখের রুচিই বাড়ায় না, পেটের নানা সমস্যা দূর করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে। কদবেলের আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশে। ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কায় প্রচুর জন্মে।

পুষ্টিগুণ
প্রতি ১০০ গ্রাম কদবেলে জলীয় অংশ রয়েছে ৮৫ দশমিক ৬ গ্রাম, খনিজ পদার্থ ২ দশমিক ২ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৪৯ কিলোক্যালরি, আমিষ ৩ দশমিক ৫ গ্রাম, চর্বি শূন্য দশমিক ১ গ্রাম, শর্করা ৮ দশমিক ৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৯ মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ৩ মিলিগ্রাম। এছাড়া এতে খাদ্যশক্তি রয়েছে কাঁঠাল ও পেয়ারার প্রায় সমান। আমিষের পরিমাণ আমের চেয়ে তিনগুণ, কাঁঠালের দ্বিগুণ, লিচুর চেয়ে তিনগুণ এবং আমলকী ও আনারসের চেয়ে চারগুণ বেশি।

উপকারিতা

এটি দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য ও দীর্ঘস্থায়ী আমাশয় দূর করে

রক্ত পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। এর পুষ্টি উপাদান শরীরের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে

এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, ভিটামিন, লৌহ, পেকটিন প্রভৃতি। এসব উপাদান ক্রনিক ডায়রিয়া ও ডিসেন্ট্রির মহৌষধ হিসেবে কাজ করে

গলায় ঘা বা ক্ষত হলে ও ঘনঘন হেঁচকি উঠলে কদবেল খেলে দ্রুত সেরে যায়

এটি সর্দিকাশির জন্য উপকারী। এটি খেলে সর্দিকাশির উপশম হয়

এটি রুচি বাড়ায়। এর টক-মিষ্টি স্বাদ
রুচি বাড়াতে সাহায্য করে। যাদের খাবারে অরুচি থাকে, তাদের জন্য কদবেল অনেক উপকারী

এতে রয়েছে ভিটামিন সি, যা শক্তিশালী প্রাকৃতিক অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে শরীরের বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ করে

অনেকের ব্রণ ও মেছতার সমস্যা রয়েছে। কাঁচা কদবেলের রস মুখে মাখলে বেশ উপকার পাওয়া যায়

এটি শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে ও স্নায়ুর শক্তি জোগায়।