কবুতরের ঘাড় বাঁকা ও খাবার না খাওয়া সমস্যার সমাধান

620

কবুতরের ঘাড় বাঁকা হয়ে থাকে। খাবার খেতে পারে না। এর সমাধান কী? এমনই প্রশ্ন পাঠিয়েছেন এক প্রাণিপ্রেমী। এর সমাধান দিয়েছেন কৃষিবিদ মো. তৌফিক আরেফীন ও কৃষি তথ্য সার্ভিস।

কবুতরের টাল বা ঘাড়বাঁকা রোগের কারণ:

খাবার পানির পাত্রে পায়খানা করলে সেই পানি যথা সময়ে না সরিয়ে নিলে সেই পানি পান করলে এই রোগ ছড়াবে।
আক্রান্ত কবুতরের সংস্পর্শে, এই রোগ ১০-১৫ দিন পর্যন্ত জীবানু ছড়াতে পারে।
নতুন পায়রা খামারে প্রবর্তনের মাধ্যমে হতে পারে।
রোগে আক্রান্ত কবুতর খামারে প্রবেশ করালে।
সংক্রমিত মলের মাধ্যমে সংক্রমিত হতে পারে।

বাইরের পাখি খামারে অবাধ প্রবেশ বা খামারের কবুতর বাইরের কবুতরের সংস্পর্শে।

কবুতরের টাল বা ঘাড়বাঁকা রোগের লক্ষণঃ

বমি ভাব বা বমি করবে। খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে খাঁচার এককোণে চুপ করে লোম ফুলিয়ে বা এক পা উচু করে অথবা গায়ে মুখ গুঁজে বসে থাকবে।
ঘাড় বেকে যাওয়া বা মুচড়ান বা ঘাড় উল্টে যাওয়া বা মাথা ঘুরান বা মাথা কাপতে থাকবে।
অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পাখি কিছুটা শিথিল হয়ে যাবে ও দ্রুত ওজন কমে যাবে ও বুকের হাড্ডি বের হয়ে যাবে।
পায়ের সন্ধি/জয়েন্ট বা পায়ে ফুলে যেতে পারে।
উল্টে পড়ে যাবে বা খাবারের সঠিক জায়গায় ঠোকর দিতে প্রবে না । বাকা ভাবে উড়া বা উড়তে গিয়ে পড়ে যাবে, একই জায়গায় ঘুরতে থাকবে।
গাড় সবুজ পায়খানা বা সবুজ ও সাদা পায়খানা বা পাতলা সবুজ বা পাতলা সবুজ ও সাদা পায়খানা ।

কবুতরের টাল বা ঘাড়বাঁকা রোগ প্রতিরোধঃ

রোগের শুরুতেই আক্রান্ত কবুতর কে আলাদা করতে হবে।
দিনের বেশীর ভাগ সময় রোদে রাখতে হবে।

কবুতর পানির পাত্রে পায়খানা করলে দ্রুত পানি বদলাতে হবে।
নিয়মিত বি কমপ্লেক্স প্রয়োগ করতে হবে। আর মনে রাখবেন বি কমপ্লেক্স শরীরে জমা থাকে না এটি ৩০%-৪০% শরীর শোষণ করে বাকিটুকু পায়খানার সাথে বের হয়ে যায়।
টাল কবুতর খাবার ছিটিয়ে দিলে খাবারে ঠোকর দিলেও খাবারে ঠোকর পড়বে না খাবারের সাইডে ঠোকর পড়বে তাই খাবার ১ জায়গায় বেশি করে দিতে হবে।

কবুতরের ঘাড় বাঁকা হয় ভিটামিনের অভাবজনিত কারণে। এই রোগ হলে কবুতরকে বিয়োটিভ দিনে ২ বেলা করে খাওয়াতে হবে। এছাড়া একটি বোতলে ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম ছোলা নিয়ে পানি দিয়ে রাখতে হবে। প্রতিদিন ওই ছোলা বড় কবুতরের ক্ষেত্রে ৪০ থেকে ৫০টা এবং ছোট কবুতরের ক্ষেত্রে ২০ থেকে ৩০টা করে খাওয়াতে হবে। এ পদ্ধতি অনুসরণ করলে আপনি উপকার পাবেন।

দিনে ২-৩ বার ঘার ফুটিয়ে দিতে হবে অর্থাৎ হালকা টেনে দিতে হবে টেনে দিতে হবে এতে পেশি ও স্নায়ু স্বাভাবিক হতে থাকবে।
নিয়মিত সালমনেলা কোর্স করাতে হবে সব থেকে ভাল হয় Hamico ph কোর্স করানো এবং ১ মিলি ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রতিমাসের শুরুতে ১-৫ দিন খাওয়াতে হবে।
পানি না খেতে পারলে সিরিঞ্জ দিয়ে তুলে খাওয়াতে হবে।

যেদিকে ঘাড় বাঁকা হয়েছে তার বিপরীত দিকে কবুতরের মুখ ৫-৭ সেকেন্ড হাত দিয়ে ধরে রাখতে হবে দিনে ৩-৪ বার এই প্রক্রিয়া চালাতে হবে
ভিটামিন বি খাওয়াতে হবে। মনে রাখবেন অসুস্থ কবুতর কে ভিটামিন বি কমপ্লেক্স ছাড়া অন্যান্য ভিটামিন দেওয়া উচিত নয়।

ফার্মসএন্ডফার্মার/ ০৭ ডিসেম্বর ২০২১