কার্প মাছ চাষে সম্পূরক খাদ্য ও সার প্রয়োগ করার নিয়ম

16

কার্প মাছ চাষে সম্পূরক খাদ্য ও সার প্রয়োগ সম্পর্কে মৎস্য চাষিদের সঠিক ধারণা থাকা দরকার। অধিক লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে আমাদের দেশে অনেকেই কার্প মাছের চাষ করছেন। তবে কার্প মাছ চাষে সঠিক খাদ্য ও যত্ন নিতে হয়। চলুন আজ জেনে নিব কার্প মাছ চাষে সম্পূরক খাদ্য ও সার প্রয়োগ সম্পর্কে-

কার্প মাছ চাষে সম্পূরক খাদ্য ও সার প্রয়োগঃ
সম্পূরক খাদ্য প্রয়োগঃ

খাদ্যের সাথে সরিষার খৈল ব্যবহার করা হলে পরিমাণমত উহা একটি পাত্রে সমপরিমান পানির সাথে ১২-১৫ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। অতঃপর উক্ত পঁচা সরিষার খৈলের সাথে পরিমানমত অন্যান্য উপাদান মিশিয়ে আধা শক্ত গোলাকার বলের মত তৈরী করতে হবে। এ খাদ্য দিনে দুবার অর্থাৎ সকালে ও বিকেলে পুকুরের কয়েকটি নির্দিষ্ট স্থানে সরবরাহ করতে হবে। সম্ভব হলে খাদ্য পাত্রের মধ্যে সরবরাহ করলে ভাল হয়। শুকনো গুঁড়ো খাবার সরাসরি পুকুরের পানিতে ছড়িয়ে দিলে খাদ্যের অপচয় হয়। এতে মাছের ভাল ফলন পা্ওয়া যায়। তাছাড়া, অতিরিক্ত খাদ্য সরবরাহ খাদ্যের পঁচন ক্রিয়ায় পুকুরের পরিবেশ দূষিত হবে।

সার প্রয়োগঃ

মজুদ পুকুরে সার প্রয়োগের পূর্বে অবশ্যই প্রাকৃতিক খাদ্যের বিদ্যমান অবস্থা জেনে নেয়া ভাল। কারন সম্পূরক খাদ্য ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার ব্যবহার করলে পানি দূষন হতে পারে।তিন ভাবে প্রাকৃতিক খাদ্য পরীক্ষা করা যায়।

সেকি ডিস্ক ব্যবহারঃ

সেকি ডিস্ক একটি সাধারনত লোহার থালা। এর ব্যাস ২০ সেঃমিঃ, রং কালো ও সাদা। এটি পানিতে ডুবানোর পর যদি থালাটি ২০ সেঃমিঃ এর পর্ও দেখা যায় তবে বুঝতে হবে প্রাকৃতিক খাদ্য কম আছে। সার দেয়া প্রয়োজন।

গ্লাস ব্যবহারঃ

পুকুর থেকে গ্লাসে পানি নিয়ে সূর্যের বিপরীতে দেখতে হবে ক্ষুদ্র প্রাণীকণা আছে কিনা। একটি সাধারন গ্লাসে ৮-১০টি প্রাণীকণা দেখা গেলে বুঝতে হবে প্রাকৃতিক খাদ্য আছে।

প্ল্যাংকটন নেটঃ

প্ল্যাংকটন আটকানো যায় এমন নেটে ৪০ লিটার পানি চালনা করে জালে আটকানো প্ল্যাংকটন একটি বীকারে সংগ্রহ করতে হবে। সংগৃহীত প্ল্যাংকটনের পরিমাণ ২ সিসি হলে খাদ্য পর্যাপ্ত আছে বলে বুঝতে হবে।