কৃষিখাতকে সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী বরাবর প্রস্তাবনা

27

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসের প্রভাবে দেশে চলছে অঘোষিত লকডাউন। এমতাবস্থায় ভেঙ্গে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে কৃষিখাতের অবদান সবথেকে বেশি। এদিকে এই করোনা পরিস্থিতিতে হুমকির মুখে পড়েছে দেশের কৃষিখাত। মাঠের ফসল সংগ্রহ করা থেকে শুরু করে কৃষিদ্রবাদি বাজারজাতকরণ, ফসলের পরিচর্যা, প্রাণী ও মৎস্য উপাদান উপকরণ সংগ্রহ, সরবরাহ , বিতরণ সহ বাজার তদারকি পর্যন্ত নানাবিদ কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এই সংকটকালীন সময়ে উদ্ভূত এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষিখাত ও খাদ্য উৎপাদন গতিশীল রাখতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বরাবর প্রয়োজনীয় ১৪টি প্রস্তাবনা রেখেছেন।

আজ ৩ মে ২০২০, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) এর মহাসচিব কৃষিবিদ মোঃ খায়রুল আলম প্রিন্স ও কেআইবি এর সভাপতি কৃষিবিদ প্রফেসর ড. মোঃ শহীদুর রশীদ ভুঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রধানমন্ত্রীর নিকট প্রেরিত এক চিঠির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণকালে সামগ্রিক কৃষিখাত সচল ও গতিশীল রেখে খাদ্য উৎপাদন অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) প্রধানমন্ত্রী বরাবর যে ১৪টি প্রস্তাবনা পেশ করেছে তা নিন্মরূপ-

১. কৃষি প্রণোদনার অর্থ বিনিয়োগ ও প্রান্তিক কৃষক বাছাইয়ের জন্য উপখাত সমুহের স্ব স্ব বিভাগের মাধ্যমে হতে হবে। এতে করে প্রকৃত কৃষক সুবিধা পাবে যার ফলে ফসল, মৎস্য ও প্রাণিখাতে সাফল্য আসবে।

২। কৃষিজাত পণ্য ঝুকিমুক্ত ভাবে পরিবহণ সুবিধা নিশ্চিত করার করার পাশাপাশি কৃষি, প্রাণী ও মৎস্য বিভাগসমূহের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দায়িত্বপালন করতে হবে।

৩। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থার লক্ষ্যে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ এর প্রতিনিধিসহ অন্যান্য বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি কমিটি গঠন করা ।

৪। বর্তমান পরিস্থিতিতে যাতে মাঠ পর্যায়ে সেবা সরবরাহ ব্যাহত না হয় সেজন্য বিভিন্ন অধিদপ্তর ও বিভাগের অলস পড়ে থাকা গাড়ী গুলো ড্রাইভার সমেত বিভিন্ন সেবাদানকারী বিভাগের কর্মকর্তাদের জন্য সাময়িক বরাদ্দ দেয়া ।

৫। উপজেলা পর্যায়ের কৃষি, প্রাণী ও মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শে কৃষির সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ত্রাণ বিতরণ কাজে নিয়োজিত করা।

৬। কৃষিখাতের জন্য কাজ করা সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরকে করোনাযোদ্ধা হিসেবে ঘোষণা দিয়ে উৎসাহিত করার পাশাপাশি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা।

৭। প্রাণিসম্পদ শিল্প হতে সৃষ্টি হওয়া রোগ জীবাণু যেহেতু জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ সেহেতু ফার্ম টু ফার্ম নজরদারী নিশ্চিত করা।

৮।কৃষি গবেষণা কাজ যেন স্বাভাবিক গতিতে চলে সেজন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা করা।

৯। ফসল খাতের উৎপাদন উপকরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য কর্পোরেশন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কাজের গতি স্বাভাবিক রাখতে নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

১০। খরিপ -১ মৌসুমের প্রধান প্রধান ফসল চাষের লক্ষ্যমাত্রা যাতে অর্জিত হয় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষদের কর্মধারা সচল রেখে বীজ, সার সহ প্রণোদনা প্যাকেজ সরবরাহের ব্যবস্থা করা।

১১। কৃষি উপকরণ আমদানি -রপ্তানি সচল রাখতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের তৎপর থাকার ব্যবস্থা করা।

১২। এক খন্ড জমিও যাতে অনাবাদি না থাকে সেজন্য সর্বাধিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা।

১৩। ফসল উৎপাদন ব্যহত না হওয়ার জন্য সরকারি ও বেসরকারি বীজ উৎপাদন কারীদের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা।

১৪। কৃষিবিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য পাশকৃত গ্র্যাজুয়েটদের স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষি কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।

ফার্মসএন্ডফার্মার/০৩মে২০