খামারে যেসব বিষয়ের খেয়াল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ

59
Poultry farm (aviary) full of white laying hen

খামারে যেসব বিষয়ের খেয়াল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ:

১।প্রতিদিন খাবার ও পানির হিসাব নিতে হবে

২।মুরগি অসুস্থ কিনা বা মারা গেলে তা ডাক্তার কে জানাতে হবে।

৩।রাত্রে খাবার পাত্র ও পানির পাত্র পরিস্কার করছে কিনা খেয়াল রাখতে হবে যাতে ইদুর না আসে।

৪।ফুট বাথ ব্যবহার করে কিনা খেয়াল রাখতে হবে

৫।দিনে ২ বার মিনিমাম ১বার ফুট বাথে জীবাণুনাশক দিতে হবে।

৬।লিটার ভিজা বা দলা পাকানো আছে কিনা দেখতে হবে যদি থাকে তাহলে লিটার চালতে হবে বা নতুন লিটার দিতে হবে এমন কি চুন দেয়া লাগতে পারে

প্রতিদিন লিটার উলটে পালটে দেয় কিনা তবে তা খাবার ও পানির দেয়ার আগে করতে হবে,সকালে ও রাতে বা শুধু সকালে

৭।খাবার পাত্র ও পানির পাত্র পরিস্কার কিনা,পানির পাত্র দিনে ২বার অবশ্যই পরিস্কার করতে হবে ১বার ব্লিচিং পাউডার আরেক বার সাদা পানি দিয়ে করা ভএল।

৮।পানির পাত্রে ফুটো /লিক আছে কিনা দেখতে হবে

খাবার ও পানির পাত্র পর্যাপ্ত আছে কিনা এবং সঠিক উচ্চতায় আছে কিনা ব্রয়লারের ক্ষেত্রে খাবার পাত্র ক্রপ বরাবর আর পানির পাত্র পিঠ বরাবর করা উচিত।

৯।পানিতে জীবাণূ নাশক দেয়ার ক্ষেত্রে কন্টাক টাইম মেনে চলে কিনা,পানিতে জীবাণু নাশক দেয়ার দেয়ার পর কিছু সময় অপেক্ষা করে তারপর মুরগিকে দিতে হবে প্রায় ২০-৩০ মিনিট পর দেয়া উচিত,ফিটকিরি হলে কয়েক ঘন্টা রেখে দিতে হয়।

১০।ফার্মে আলো বাতাস ঠিক মতে পড়ে কিনা দেখতে হবে.

১১।কত দিনের খাবার আনা হয়েছে এবং কতদিন পর শেষ হবে তা জানা উচিত

১২।নিজে বানানো লোজ ফিড ১-৩দিনের বেশি রাখা ঠিক না

কোম্পানীর ফিড শীতকালে ১০দিন আর গরম কালে ৭দিনের বেশি আনা ঠিক না

১৩।বয়স অনুযায়ী ওজন ও খাবার ঠিক আছে কিনা এবং সে অনুযায়ী জায়গা দেয়া হয়েছে কিনা

১৪।মুরগির পায়খানার কালার,গঠন ও ঘনত্ব ঠিক আছে কিনা

১৫। প্রতি সপ্তাহে মিনিমাম ১% মুরগির ওজন নিতে হবে

১৬।প্রতিবার খামার পরিদর্শনে গেলে ফিড স্টোর রুম দেখতে হবে।আলো বাতাস ঢুকে কিনা,কি পরিমাণ খাবার আছে তা দেখতে হবে

মেডিসিন ও জীবাণু নাশকের স্টক দেখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় মেডিসিন এর অর্ডার দিতে হবে

১৭।মেডিসিনের ডোজ ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে

১৮।রেকর্ড কিপিং দেখতে হবে সেখানে প্রতিনের কাজ লিখে রাখে কিনা

ব্রয়লার মুরগির ক্ষেত্রে এফ সি আর বের করতে হবে

১৯।মুরগির বিক্রির পর লাভ লসের হিসাব করতে হবে

২০।বাচ্চা তোলার আগে খাবার ও পানির পাত্র,পর্দা,নেট,ব্রুডার,বাল্ব,লিটার।পাত্রের নিচে দেয়ার জন্য কাঠ,ইট বা স্ট্যান্ড পরিস্কার করে রাখা আছে কিনা

২১।মুরগির স্টান্ডার্ড খাবার,পানি,ওজন,প্রডাকশন জানতে হবে,কর্মচারী ছুটি দিয়ে দেখতে হবে ডিম বাড়ে কিনা।

২২।এক্টা ট্রেইনিং নিয়ে রাখা ভাল এতে ফার্ম পরিচালনা করতে সহজ হবে।

ব্রুডিং কালে কি কি খেয়াল রাখতে হবে।

ব্রুডার ঘরের তাপমাত্রা চেক করতে হবে

ঘরে আলোর তীব্রতা ঠিক আছে কিনা দেখতে হবে

খাবার ও পানির পাত্র ঠিক আছে কিনা

ঘরে এমোনিয়া হচ্ছে কিনা দেখতে হবে যদি গ্যাস হয় তাহলে পর্দা তুলে বের করে দিতে হবে

প্রতি বাচ্চাকে ০.৩ বর্গফুট জায়গা দেয়া উচিত ৩দিন পরের ৪দিন ০.৪বর্গফুট দিতে হবে

খেয়াল করতে হবে বাচ্চা গুলো খাবার ও পানি খাচ্ছে কিনা,ক্রপ টেস্ট করতে হবে

পেপার গুলো ভিজে গেলে পরিবর্তন করতে হবে

প্রতিবার খাবার দেয়ার সময় যাতে শব্দ করে দেয় এতে বাচ্চা খাবে ভাল

বাচ্চাকে মেডিসিন গুলো ঠিক মত দিচ্ছে কিনা

চার দিন বয়স থেকে লিটার উলটে পালটে দিতে হবে

ভ্যাক্সিন গুলো নির্দিস্ট সময় দিচ্ছে কিনা দেখতে হবে

স্টাটার থেকে গ্রোয়ার আবার গ্রোয়ার থেকে ফিনিশারে যাবার সময় মিক্স করে খাবার দিতে হবে।লেয়ারের ক্ষেত্রেও এই নিয়মে দিতে হবে।

রেকর্ড কিপিং/রেজিস্টার

খামারির নাম,ঠিকানা,মোবাইল,ফ্লক নাম্বার,সেড নাম্বার,মুরগির সংখ্যা্,ব্যাচ নাম্বার,ব্রিডের নাম এই গুলো কভার পেজে থাকবে।

বাচ্চা ও খাবার কোম্পানি নাম

বাচ্চার ১ম দিনের ওজন

উপরে সেডের বর্ণনা দেয়া যায়,দৈর্ঘ্য,প্রস্থ,উচ্চতা,খাচা,মাচা,লিটার।নিপল লাইন,নরমাল।

১ম কলামে তারিখ,বয়স( সপ্তা ও দিন),মুরগির সংখ্যা(মৃত মুরগি ও বর্তমান মুরগি,খাদ্য গ্রহণ (কেজি,গ্রাম/বার্ড)।পানির পরিমাণ,মুরগির ওজন,ডিম উতপাদন ও বিক্রয়(ডিম%,বিক্রিত ডিম,দাম)মেডিসিন ও টিকা।

৭দিন পর গড় ওজন বের করার জন্য জায়গা রাখতে হবে।পরে নিচে থেকে আবার ৮ তারিখ দিয়ে শুরু করতে হবে।

এভাবে প্রায় ১০০ সপ্তাহের ১ক্টা রেজিস্টার থাকতে হবে।সাথে ভ্যাক্সিন সিডিউল ও লাইটিং সিডিউল দেয়া থাকলে ভাল হবে।

মুরগির ফার্মে কাজের রুটিন

আমরা অনেকেই মুরগি ফার্ম দিতে চাই বা দেই,সেটা হোক নিজের শখের বসে বা কর্মসংস্থানের জন্য।কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না কি ভাবে মুরগির ফার্মে সময় দিতে হয়? মুরগির ফার্মে কাজের রুটিন ধারাবাহিক ভাবে নিচে আলোচনা করা হলোঃ

ক.দৈনিক কাজ ঃ
১.পানির পাত্র পরিস্কার করা এবং খাবার পাত্র মুছে ফেলা ( রাতের বেলা).ইদুর এসে খাবার পাত্রে পায়খানা করে জীবাণু ছড়ায়

২.ওষধ,খাবার এবং পানি দেয়া(২-৩ বার). লেয়ারঃ সকাল ৫-৭টায়,বিকাল ২-৪টায় যদি ৩বার দেয় শীতে সকাল ৫-৬টায়,দুপুরে ১২টায়,বিকাল ৪টায়।

ব্রয়লার গরমে সকাল ৬-৭টায় ,বিকাল ৩-৫টায়,রাত ৮-৯টায়।

শীতে সকাল ৬-৭টায়,দুপুর ১২টায়,বিকাল ৪-৫টায়,রাত ৯-১০টায়।

৩. সঠিক সময়ে লাইট অন এবং অফ করা.

৪. ফ্লোর ঝাড়ু দেয়া.

৫.শীতকালে ভিতরে ভাইরুসিড দিয়ে এবং বাহিরে ডিটারজেন্ট বা সোডা দিয়ে একদিন পর পর স্প্রে করা.

৬. পানিতে ১ দিন পর পর এসিডিফায়ার এবং সেফওয়াট( ক্লোরিন) দেয়া পানির পি এইচ যদি বেশি থাকে।(৮ বা ৮এর বেশি হয়)

৭. সব কিছুর রেকর্ড রাখা(ডিম,পানি,খাবার,ওষধ,টিকা,কৃমিনাশক,মরটালিটি ,মর্বিডিট)

৮।লিটার উল্ট্রে দেয়া।

৯।নিপল লাইন হলে পানি্র লাইন ফ্লাশ করা(৩০মিনিট,রাত্রে লাইট অফ করার পর)

খ.সাপ্তাহিক কাজ ঃ

১. খাবার পাত্র পানি,ডিটারজেন্ট এবং তুতে দিয়ে পরিস্কার করা.

২. নেট,খাচা এবং ছাদ থেকে মাকড়সার ঝাল পরিস্কার করা.

৩. ভিটামিন ডব্লিউ এস এবং এ ডি ই ১৫ দিন পর পর ৪-৫ দিন পানিতে দেয়া.
৪.মুরগির ওজন নিয়ে ইউনিফর্মিটি বের করতে হবে.(লেয়ারের ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে ১৮ সপ্তাহ পর্যন্ত ১৯-২৫ সপ্তাহ পর্যন্ত ১৫দিন পর পর, ৪০ সপ্তাহ পর্যন্ত ১মাস পর পর ,ব্রয়লার ব্রিডারের ক্ষেত্রে প্রতি সপ্তাহে ওজন নিয়ে ইউনিফর্মিটি বের করতে হবে,৩০ সপ্তাহ পর্যন্ত ৭দিনে একবার,৪০ সপ্তাহের পর ২-৩ সপ্তাহের পর পর)

গ. মাসিক কাজ ঃ

১. ই সেল( ভিটামিন ই),লিভারটনিক,প্রবায়োটিক,মাইকোপ্লাজমার ডোজ ৩০-৪৫দিন পর পর ৩-৪ দিন প্রয়োগ করা.

২.বাল্ব পরিস্কার করা.

৩. মাচা বা খাচা হলে ২-৩ মাস পর পর কৃমিনাশক দেয়া, ফ্লোরে হলে দেড়-২ মাস পর পর,
শীতকাল হলে ৪৫ দিন পর পর আর অন্য সময় ২ মাস পর পর রানিক্ষেতের টিকা দেয়া.

৪.এসিডিফায়ার,প্রবায়োটিক এবং ক্লোরিন না খাওয়ালে মাসে একবার সালমোনেলার ডোজ করা.

৫।পানির ট্যাংক এ ব্লিচিং পাউডার ১ ঘণ্টা রেখে তারপর পরিস্কার করা।

পানির লাইনে এসিটিক এসিড ৩% দিয়ে পরিস্কার করা।( রাত্রে লাইট অফ করার পর)

৬। খাচা পুরান হলে ভেংগে যেতে পারে ,মুরগি বের হয়ে যায়।ডিম পড়ে যায়।খাচা রিপেয়ারিং করতে হবে।

ঠোকরা ঠুকরি করলে আলাদা খোপে রাখতে হবে।

রাতে কোন পশু পাখি আসে কিনা খেয়াল রাখতে হবে।

অনেক সময় ফ্লোর দেবে যেতে পারে বা অন্য কারণে পানির লাইন উচুনিচু হয়ে যেতে পারে এতে অনেক মুরগি পানি খেতে পারে না।ডিমকমে যায়।

অন্যান্য কাজ

১।সেডের বাহিরে ঘাস হলে তা পরিস্কার করা

২।ইদুরের বিষ দেয়া,গর্ত থাকলে তা বন্ধ করা।

৩।কর্মচারীদের মনিটরিং করা ঠিক মত কাজ করে কিনা।

৪,ব্রয়লার বা লেয়ার/সোনালী মুরগি বিক্রির পর ধারাবাহিকভাবে পরিস্কার করা

নোট: যে যতগুলো পয়েন্ট মেনে চলবে সে ততটুকু ভাল করবে,যার যার সামর্থ্য এবং সুযোগ অনুযায়ী.