খামার ব্যবস্থাপনা

136

খামার ব্যবস্থাপনাঃ

খামার ব্যবস্থাপনা খামারের প্রাণ। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা খামারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের প্রধান সহায়ক। ব্যবস্থাপনা যত নিখুঁত ও প্রাণীর স্বাস্থ্য সহায়ক হবে, খামারের উদ্দেশ্য অর্জন তত সহজ ও বরকতময় হবে। ব্যবস্থাপনা আসলে এক ধরনের কলা কৌশল যার মাধ্যমে খামারকে সম্পদ, সুযোগ ও সময়ের সমন্বয় ঘটিয়ে লাভজনক করা যায়। সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার উপকারিতা অনেক, তবে প্রধান সুবিধাগুলো হলো —

১. সম্পদের মিতব্যয়িতা।
২. অল্প সময়ে অধিক উৎপাদন।
৩. স্বল্প সময়ে অধিক লাভ।
৪. শক্তি ও শ্রমের অপচয় রোধ।
৫. উৎপাদনে গুণগত মান ও উৎকর্ষতা লাভ।
৬. সর্বাধিক পরিতৃপ্তি।

খামার ব্যবস্থাপনার বিবেচ্য বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হল।

খামারের নাম ও মালিকানাঃ
প্রথমেই বিবেচনায় আনতে হবে খামারের নাম কি হবে এবং মালিকানা ব্যক্তিভিত্তিক নাকি যৌথ হবে।

খামারের ধরনঃ
এরপর বিবেচনায় আনতে হবে আমরা দুধের, মাংসের নাকি বাচ্চা উৎপাদনের জন্য খামার স্থাপন করবো। উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে আমাদের প্রাণী নির্বাচন করতে হবে। যেমনঃ দুধের খামার হলে দুধাল জাতের গাভী নিতে হবে। ঠিক এই ভাবে খামারের ধরন অনুযায়ী ছাগলের, ভেড়ার, গাভীর, মহিষের খামার ইত্যাদি হতে হবে।

মূলধন সংগ্রহঃ
মূলধনের উৎস্য ও বিনিয়োগের পরিমাণ, আবর্তক খরচের উৎস্য পরিমাণ বিবেচনায় আনতে হবে। আর্থিক উৎস্য ব্যক্তিগত হওয়াই সব দিক থেকে উত্তম। এছাড়া সমিতি, ব্যাংক, বেসরকারি সংস্থা, অনুদান এসব থেকেও হতে পারে।

খামাররের আকারঃ
পারিবারিক পর্যায়ে ২-৫ টি প্রাণী সমন্বয়ে ক্ষুদ্র খামার, নাকি ৫টির বেশী প্রাণী নিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার স্থাপন করা হবে, তা বিবেচনায় আনতে হবে। বাণিজ্যিক ভিত্তিতে খামার স্থাপনে প্রথমে প্রথমে অল্প কিছু প্রাণী নিয়ে খামার আরম্ভ করা উত্তম। এতে খামার স্থাপনে ব্যয় অর্থাৎ মূলধন কম লাগবে এবং অর্জিত আয়কে মূলধন করে আস্তে আস্তে খামার বড় করা যেতে পারে।

খামারের অবকাঠামো নির্মাণঃ
প্রাণীর সংখ্যা, খাদ্যের উৎস্য ও উৎপাদন পদ্ধতি (আবদ্ধ ঘরে নাকি উন্মুক্ত চারণভূমি) বিবেচনা করে খামারের জন্যে বিভিন্ন ঘর ও ঘাস চাষের জন্যে নির্দিষ্ট জায়গা রাখতে হবে। ঘর তৈরীতে বিভিন্ন বয়সের প্রাণীর জন্যে আলাদা আলাদা ঘর তৈরী করতে পারলে ভালো।এছাড়া বাণিজ্যিক খামারের ক্ষেত্রে খাদ্য গুদাম ঘর, যন্ত্রপাতি সরঞ্জাম রাখার ঘর, উৎপন্ন দ্রব্য সংরক্ষণ ঘর, অফিস ও বিক্রয় কেন্দ্র, কর্মচারী থাকার ঘর, জেনারেটর ঘর ইত্যাদি তৈরী করতে হবে।

ফার্মসএন্ডফার্মার/০৫জুন২০