গবাদি প্রাণীর সংক্রামক গর্ভপাত, চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

79

গবাদি প্রাণীর সংক্রামক গর্ভপাত বা ব্রুসেলোসিস মানুষ ও পশুর একটি মারাত্মক সংক্রমক রোগ। নিম্নে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো –

রোগের কারণঃ
ব্রুসেলা গণভূক্ত ৬টি প্রজাতি মানুষসহ বিভিন্ন পশুর ব্রুসেলোসিস রোগের জন্য দায়ী। ব্রুসেলা একটি গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া। ব্রুসেলা এবরটাস (Brucilla abortus) গরুর গর্ভপাত ঘটায়। ব্রুসেলা মেলিটেনসিস্ (Brucella melitensis) ছাগল ও ভেড়ার ব্রুসেলোসিস রোগের জন্য দায়ী।

রোগের লক্ষণঃ

গাভীর গর্ভধারনের ৫মাস পর থেকে গর্ভপাত এ রোগের প্রধান লক্ষণ। গর্ভপাতের কয়েকদিন আগে থেকেই লালাভ আঠালো তরল স্রাব হতে পারে।
একবার ব্রুসেলোসিস কারণে গর্ভপাতের শিকার গাভীর ২য় ও ৩য় গর্ভাবন্থায় গর্ভপাতের সম্ভাবনা থাকে। পরবর্তীতে পূর্ণ স্বাভাবিক বাচ্চা হয়।
ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত গাভীর জীবিত বাচ্চা হতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বাছুর দুর্বল ও অপরিপক্ক হয় এবং জন্মের কয়েক ঘন্টার মধ্যে মারা যায়।
গর্ভপাতের জটিলতা হিসাবে গর্ভফুল আটকে যাওয়া ও জরায়ুর প্রদাহ হয়।
ষাঁড়ের ক্ষেত্রে এ জীবাণুর সংক্রমণ হলে অর্কাইটিস, এপিডিডাইমিটিস ও অন্যান্য জনন অঙ্গ তীব্র ব্যথায় ফুলে উঠে। এ অবস্থায় ষাঁড়ের বীর্ষের মাধ্যমে জীবাণু নির্গত হয়।
প্রতিরোধঃ
স্বাস্থ্যসম্মত বিধি-ব্যবস্থা মেনে চলতে হবে।

স্বাস্থ্যসম্মত পশু সনাক্তকরণ ও স্বতন্ত্রীকরণ ও স্বতন্তীকরণ এবং মেরে ফেলে মাটির নীচে পূঁতে ফেলা উত্তম ব্যবন্থা।
গর্ভপাত ঘটিত মৃত বাচ্চা, প্লাসেন্টা ও জরায়ুর নিঃসরণ মাটিতে পুঁতে বা পূড়িয়ে ফেলতে হবে।
খামারের বা বাড়ীতে নতুন পশু আমদানীর ক্ষেত্রে প্রথমে স্বতন্ত্র স্থানে রেখে পর্যবেক্ষণ ও পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে জীবাণুর উপস্থিতি নিশ্চিত হলে পশুকে মেরে ফেলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
ব্রুসেলা আক্রান্ত পশু পরীক্ষা করতে হলে পরীক্ষার আগে ও পরে হাত জীবাণুনাশক দ্বারা ধৌত করতে হবে।
ব্রুসেলা আক্রান্ত পশুর চারপাশের পরিবেশ জীবানুনাশক দ্বারা পরিস্কার করতে হবে।
চিকিৎসাঃ

ভেটেরিনারি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী অ্যান্টিবায়োটিক বা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থাদি গ্রহণ করতে হবে।

ফার্মসএন্ডফার্মার/২৬নভেম্বর২০২০