ছাগলের পি পি আর রোগ লক্ষণ চিকিৎসা ও প্রতিরোধ

109

অনেকে বলে থাকেন ছাগলের রােগ-ব্যাধি তুলনামূলক কম হয় অন্যান্য গবাদিপশুর তুলনায়। কিন্তু প্রকৃত পক্ষে ছাগলের মৃত্যুর হার অন্যান্য গবাদিপশুর তুলনায় অনেক বেশি।
বাংলাদেশে ছাগলের বিশেষ বিশেষ যেসব রােগ হয়,সেগুলাের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে পি পি আর। পেষ্টি ডেস পেটিট রুমিনান্ট (P.P.R)
পি.পি.আর রােগটি ছাগলের একটি প্লেগ রােগ। এ রােগে বাংলাদেশে প্রতি বছর বহু ছাগল মারা যায়। সম্প্রতি এ রোেগ বাংলাদেশে মড়ক আকারে দেখা দিয়েছে।

রোগের লক্ষণঃ

এ রোগে আক্রান্ত ছাগলে অবসাদ, অরুচি, জ্বর হয় ও চোখ-নাক দিয়ে প্রচুর শ্লেষা পদার্থ বের হয় ও নিউমােনিয়ার লক্ষণ প্রকাশ পায়।
মূখে মাড়ির নীচে ক্ষত দেখা যায়।
প্রবল ডায়রিয়া হয়
দেহ দ্রুত পানি শূন্য হয়ে পড়ে।
জিহ্বার গােড়া ফুলে যায়।
গর্ভবতী ছাগলের গর্ভপাত হয়ে যায়।
তাপমাত্রা ১০৪/১০৫ ডিগ্রী ফাঃ
মুখের ভিতর দৃশ্যমান স্থান লাল হয় ও ক্ষত দেখা যায়।
চোখ পিচুটিতে ভরে যায়।
৮-১০ দিনের মধ্যে ছাগল মারা যেতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা না দিলে মৃত্যু হার শতকরা ১০০% পর্যন্ত হয়ে থাকে।
চিকিৎসাঃ
এ রােগ যেহেতু ভাইরাস দ্বারা হয় সেহেতু কোনাে সুনির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই। তবে, এ রােগের লক্ষণ দেখার সাথে সাথে নিকটস্থ পশু চিকিৎসালয়ের পরামর্শ নিতে হবে।

প্রতিরোধ ব্যবস্থাঃ
পি. পি আর, রােগের টিকা প্রদানই রােগ নিরাময়ের সর্বোত্তম উপায়। বাচ্চার ৪ মাস বয়সে টিকা দিতে হয়। অনেক সময় ঝুঁকি কমাতে বাচ্চার ২ মাস বয়সে টিকা দেওয়া হলে পুনরায় ৪ মাস বয়সে বােষ্টার ডােজ (২য় দফা) টিকা দিলে ভাল হয়। একবার টিকা দিলে ১ বৎসর প্রতিরােধ ক্ষমতা থাকে। বাচ্চা প্রথমে টিকা না দেওয়া থাকলে যে কোন বয়সে টিকা দেওয়া যায়।

ফার্মসএন্ডফার্মার/২১সেপ্টেম্বর২০