তাইওয়ানের ‘রেডলেডি পেঁপে’চাষে সফল হচ্ছেন কৃষক

111

ডেইরি ফার্মের পর ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে চাষেও সাফল্যের স্বপ্ন দেখছেন মো. শাহেদ আয়াত উল্যাহ খান। চার বছর আগে ‘তরুছায়া এগ্রো ফার্ম’ নামে একটি ডেইরী খামার প্রতিষ্ঠা করেন চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী মো. শাহেদ আয়াত উল্যাহ খান। ডেইরি ফার্ম দিয়ে শুরু করা ‘তরুছায়া এগ্রো ফার্ম’ ইতিমধ্যে কৃষি বান্ধব মিশ্র ফলের বাগানে পরিণত করেছেন এ উদ্যোক্তা।

মাটিরাঙ্গা পৌর শহর থেকে দুরে দুর্গম রসুলপুর গ্রামে প্রতিনিয়ত ‘রেডলেডি জাতের পেঁপে’চাষে সাফল্যের বীজ বুনেছেন কৃষিবান্ধব মো. শাহেদ আয়াত উল্যাহ খান।

কৃষি বিভাগের পরামর্শে এক বছর আগে প্রায় দশ একর পরিত্যাক্ত পাহাড়ী টিলা ভূমিতে চকরিয়াসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে বীজ সংগ্রহ করে ছয় হাজারেরও বেশি ‘রেডলেডি’জাতের পেঁপের চারা রোপণ করেন ‘তরুছায়া এগ্রো ফার্ম’-এর কর্ণধার মো. শাহেদ আয়াত উল্যাহ খান। স্বল্প মেয়াদি রেডলেডি পেঁপে চাষের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী উন্নত জাতের কমলা, মাল্টা, পেয়ারা, আম ও বড়ই চাষ করেছেন ‘তরুছায়া এগ্রো ফার্মে।

সম্প্রতি সরেজমিনে তরুছায়া এগ্রো ফার্ম ঘুরে দেখা গেছে, ডেইরি ফার্মের পাশেই অব্যবহৃত পাহাড়ী টিলা ভূমিতে সবুজে মোড়ানো ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে বাগান। সাড়ি সাড়ি পেঁপে গাছে ঝুলছে বিভিন্ন আকারের পেঁপে। সেখানেই কথা হয় তরুছায়া এগ্রো ফার্মের স্বপ্নদ্রষ্টা মো. শাহেদ আয়াত উল্যাহ খানের সাথে।

শুরু থেকে টানা ছয়মাস গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫জন শ্রমিক টানা কাজ করেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে স্থায়ী ভিত্তিতে ৬ থেকে ৭ শ্রমিকসহ এ বাগানে দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে গড়ে দশ শ্রমিক কাজ করে থাকে বলেও জানান তিনি। নিয়মিত পরিচর্চা করা হলে পেঁপে বাগান থেকে সাফল্য আসবে বলেই মনে করেন তিনি।

‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে বেশ সুমিষ্ট হওয়ায় বাজারে এর চাহিদাও ব্যাপক এমনটা জানিয়ে মো. শাহেদ আয়াত উল্যাহ খান বলেন, ইতিমধ্যে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ফেনীর পাইকারী বাজারে জায়গা করে নিয়েছে রেডলেডি পেপে। চলতি বছর ৪০ থেকে ৫০ টনেরও বেশি পেঁপে বিক্রি করতে পারবেন জানিয়ে তিনি পেঁপে চাষে সাফল্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী। তার মতে পাহাড়ের অর্থনীতিকে বদলে দিতে পারে ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে।

দীর্ঘ ছয় মাসের বেশি সময় ধরে স্থায়ী শ্রমিক হিসেবে মাসিক বেতনে তরুছায়া এগ্রো ফার্মে কাজ করে রাবেয়া বেগম সাথী। তিনি বলেন, এ বাগানে কাজ করেই তিন ছেলের লেখাপড়া আর সংসার চলে তার। একইভাবে এ বাগানেই নিয়মিত শ্রমিক হিসেবে কাজ করে ইন্দ্রজয় ত্রিপুরার সংসারও চলছে এ কৃষি খামার থেকে পাওয়া বেতন দিয়েই।

জানাগেছে, তাইওয়ানের উচ্চ ফলনশীল বামন প্রজাতির এ পেঁপে চারা রোপণের ৫-৬ মাসের মধ্যে ফুল আসে এবং ৭-৯ মাসের মধ্যে প্রথম ফল পাওয়া যায়। লাল-সবুজ রঙের প্রতিটি পেঁপের ওজন হয় দেড় থেকে দুই কেজি। খেতে সুমিষ্ট এ পেঁপে সুগন্ধিযুক্ত। কাঁচা ও পাকা উভয় প্রক্রিয়াতেই বাজারজাত করা যায়। পাকা পেঁপে খুব সহজে নষ্ট হয় না বলে বাজারজাত করা সহজ। এ জাতের পেঁপের রিং স্পট ভাইরাস রোগ সহ্য করার সক্ষমতা রয়েছে। ‘রেডলেডি’ জাতের পেঁপে গাছের আয়ুকাল দুই বছরের অধিক।

২০১১-১২ সালের দিকে মাটিরাঙ্গায় প্রথম রেডলেডি জাতের পেঁপে চাষ শুরু হয়েছে জানিয়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দেবাশীষ চাকমা বলেন, পাহাড়ের ঢালুতে এ জাতের পেঁপে সম্ভাবনাময় জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা রেডলেডি পেঁপে চাষে এগিয়ে এসছেন।

অনেকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্যও পেয়েছেন। পরিকল্পিত বাগান সৃষ্টিসহ সঠিক পরিচর্চা করা গেলে এ জাতের পেঁপে পাহাড়ে কৃষকের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। পাহাড়ের মাটির উর্বরতা ও অনুকূল আবহাওয়ার রেডলেডি জাতের পেঁপে চাষের জন্য সহায়ক বলেও জানান তিনি। শুধুমাত্র ছত্রাকের আক্রমণ ছাড়া অন্য কোন রোগবালাই হয় না।

ফার্মসএন্ডফার্মার/০৩অক্টোবর২০