দুগ্ধ গাভীর খাদ্য ব্যবস্থাপনা

119

গাভীর খাদ্য : কাঁচা ঘাস গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য। এ ছাড়া, সাধারনতঃ কৃষিজাত পণ্যের উপপণ্য যেমন, চালের কুড়া, গমের ভুষি, খেসারি ভুষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, মুশুর, মুগ, ছোলা, ও মটরের ভুষি, তিলের খৈল, তিষির খৈল, ধানের খড়, ভুট্টার খড় ইত্যাদি গো খাদ্য হিসাবে ব্যাবহার করা হয়।

উপরে বর্নিত গবাদি পশুর খাদ্যগুলিকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করতে পারি, যথা –
(১) দানাদার খাদ্য যেমনঃ- চালের কুড়া, গমের ভুষি, খেসারি ভুষি, ভুট্টা ভাঙ্গা, মুশুর, মুগ, ছোলা ও মটরের ভুষি, তিলের খৈল, তিষির খৈল ইত্যাদি দানাদার খাদ্যের অন্তর্ভুক্ত। এ সকল খাদ্য উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে মিশিয়ে সুষম দানাদার খাদ্য তৈরী করা হয়। সুষম দানাদার খাদ্য খামারীগণ নিজে খামারে তৈরি করতে পারেন। তা ছাড়া খাদ্য কারখানায় উৎপাদিত সুষম দানাদার খাদ্য বাজারে বিভিন্ন নামে পাওয়া যায়।

এ গুলি প্রয়োজনীয় মাত্রায় গবাদি পশুকে খাওয়ানো হয়।
(২) আঁশ জাতীয় খাদ্য যেমনঃ- কাঁচা ঘাস, ধানের খড়, ভুট্টার খড় ইত্যাদি গবাদি পশুর আঁশ জাতীয় খাদ্য হিসাবে ব্যাবহার করা হয়।
আঁশ জাতীয় খাদ্য দুই ভাগে বিভক্ত যেমনঃ (ক) কাঁচা ঘাস (খ) শুকনো খড় ইত্যাদি।আমাদের দেশে গো- চারন ভূমি নেই বললেই চলে। তাই কাঁচা ঘাসের ভীষন অভাব। সাধারনতঃ ফসলের জমিতে যে সব আগাছা জন্মায় ঐগুলিই ঘাস হিসাবে গবাদি পশুকে খাওয়ানো হয়। কিন্তু, এ ঘাস খামারে গাভী পালনের জন্য যথেষ্ট নয়। তাই, খামারের গাভির জন্য ফসলের জমিতে ঘাস চাষ করা প্রয়োজন। আমাদের দেশে বর্তমানে উন্নত জাতের ঘাসের বীজ পাওয়া যায়। যেমন- নেপিয়ার, পারা, হাইব্রীড সরগম (জাম্বো), জার্মান গ্রাস, আলফা আলাফা, লুসার্ন ইত্যাদি। নেপিয়ার, জাম্বু ইত্যাদি ঘাস ১ বিঘা জমিতে বছরে প্রায় ১৮ মেঃ টন পর্যন্ত উৎপাদিত হয় ।
১ বিঘা জমির উৎপাদিত ঘাস দিয়ে ৩টি গাভীকে সারা বছর কাঁচা ঘাস খাওয়ানো যায়। ধানের খড় আমাদের দেশে সারা বছর জুড়েই পাওয়া যায়। গবাদি পশুর খাদ্যের চাহিদা মিটাতে ধানের খড় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে। বর্তমানে ভুট্টার চাষ আমাদের দেশে ব্যপকভাবে হয়ে থাকে। শুকনো ভুট্টার গাছ ও পাতা গবাদি পশুর জন্য একটি উপাদেয় আশ জাতীয় খাদ্য ।

দুগ্ধবতী গাভীর সুষম দানাদার খাদ্য তৈরির তালিকাঃ
১ . গমের ভুষি- ৩৫%
২. চালের কুড়া – ৩০%
৩. খেসারি /ডাল /ছোলা / মটর ভুষি – ১০%
৪. তিলের খৈল/ সয়াবিন মিল – ২০%
৫. চিটা গুড়- ২%
৬. লবন- ০.৭৫ %
৭. ডি সি পি – ২%
৮. ভিটামিন মিনারেল প্রিমিক্স -০.২৫ %
মোটঃ ১০০

উপরে উল্লেখিত তালিকা অনুযায়ী তৈরী খাদ্য গাভীর স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য(৩ লিটার দুধ পর্যন্ত) ২.৫-৩ কেজি দানাদার খাবার দিতে হবে এবং তারপর প্রতি ২.৫-৩ লিটার দুধের জন্য ১ কেজি হারে দানাদার খাবার খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া দুগ্ধবতী গাভীকে প্রতিদিন ১-২ কেজি চাউলের খুদ আথবা ভুট্টা ভাঙ্গা সিদ্ধ করে খাওয়াতে হবে।

কাঁচা ঘাস ও খড় খাওয়ানো: একটি শংকর জাতের দুগ্ধবতী গাভী যার দৈনিক দুধ উৎপাদন ১০ লিটার তাকে ২০-২৫ কেজি কাঁচা ঘাস ও ৪ কেজি শুকনো খড় খাওয়াতে হবে। দুধ উৎপাদন ১০ লিটারের বেশী হলে প্রতি ২.৫-৩ লিটার দুধের জন্য ১ কেজি হারে কাচা ঘাসের ও খড়ের পরিমান বাড়াতে হবে। শুষ্ক, বকনা, গর্ভবতী গাভী ও ষাঁড়কে দৈনিক ১০ থেকে ১৫ কেজি ঘাস ও ২ থেকে ৪ কেজি খড় খাওয়াতে হবে ।
বাছুর লালন পালন: দুগ্ধ খামারের বড় সম্পদ তার বাছুর। তাই খামারে বাছুরের যত্ন নেওয়া অত্যন্ত জরুরী। বাছুর জন্মাবার পর থেকেই এর যথাযত যত্ন নিতে হবে। জন্মের সাথে সাথে এর নাক মুখ পরিষ্কার করে শুষ্ক স্থানে রাখতে হবে এবং গাভীকে দিয়ে গা চাটাতে হবে। নিয়মিত শাল দুধ পরিমান মত দিনে ৫/৬ বার খাওয়াতে হবে। শাল দুধ শেষ হলে নিম্ন বর্নিত ভাবে প্রতিদিন পরিমান মত দুধ খাওয়াতে হবে ।

১ম মাসঃ দৈনিক ২ থেকে ৩ লিটার
২য় মাসঃ দৈনিক ৩ থেকে ৪ লিটার
৩য় মাসঃ দৈনিক ৩ থেকে ৪ লিটার

৪র্থ মাসঃ দৈনিক ৪ লিটার উল্লেখিতভাবে বাছুরকে দুধ খাওয়ালে বাছুরে দৈহিক বৃদ্ধি তরান্বিত হবে এবং ১৫-১৬ মাস বয়সে বকনা বাছুর গর্ভ ধারনের ক্ষমতা অর্জন করবে।

পরিচর্যা: গাভীর সঠিক পরিচর্যা না করলে উন্নত জাতের গাভী পালন করেও গাভীকে সুস্থ সবল উৎপাদনক্ষম রাখা সম্ভব হবে না। ফলে গাভী হতে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ দুধ, মাংস পাওয়া যাবে না এবং গাভী পালন অলাভজনক হবে।

দুধ দোহন: গাভীর দুধ দৈনিক ভোরে একবার এবং বিকালে একবার নির্দিষ্ট সময়ে দোহন করতে হবে। দুধ দোহনের পূর্বে গাভীর উলান ও দোহনকারীর হাত পরিস্কার পানি দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।

ফার্মসএন্ডফার্মার/২৩নভেম্বর২০২০