দেশে ‘মনিপুরী ইলিশ’ মাছের উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা

48

দেশে ‘মনিপুরী ইলিশ’ মাছের চাষ ও পোনা উৎপাদনে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। সেই সাথে কেউ এই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ উৎপাদন করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ভারতের মনিপুরী রাজ্যে এ মাছের উৎপাদন করা হয় বলে একে ‘মনিপুরী ইলিশ’ বা পেংবা বলা হয়।

দেশে ইলিশের রক্ষা এবং ভেজাল প্রতিরোধে এই আদেশ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের সকল জেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে চিঠি পাঠিয়েছে মৎস্য অধিদপ্তর।

সম্প্রতি ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য দপ্তর থেকে এ জাতের মাছের উৎপাদনের ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠানো হয় বলে কর্মকর্তারা জানান। তারই পরিপ্রেক্ষিতে মনিপুরী ইলিশের চাষ এবং পোনা উৎপাদনে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয় অধিদপ্তর।

মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (মৎস্যচাষ) আজিজুল হক স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে জানানো হয়, তথাকথিত ‘মনিপুরী ইলিশ’ নামক একটি মাছের প্রজাতি অন্য দেশ থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। হ্যাচারিতে এই মাছের পোনা উৎপাদন করে চাষ হচ্ছে বলে নানা পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ময়মনসিংহ জেলা মৎস্য দপ্তর ইতোমধ্যে একটি বেসরকারি মাছের হ্যাচারিকে অবৈধভাবে এ মাছে উৎপাদনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করেছে।

অধিদপ্তরের চিঠিতে আরও জানানো হয়, হ্যাচারি আইন, ২০১০ এর ৮ ও ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী মহাপরিচালকের কাছ থেকে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কোনো জীবিত মৎস্য, রেণু পোনা আমদানি এবং পোনা উৎপাদন করা সম্পূর্ণ। তাছাড়া, মৎস্য সঙ্গনিরোধ আইন, ২০১৮ এর ৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী আমদানি অনুমতিপত্র ছাড়া বাংলাদেশের ভেতরে কোনো মৎস্য, মৎস্য পণ্য, উপকারী জীবাণু বা প্যাকিং দ্রব্যাদি আমদানি করা যাবে না।

এ অবস্থায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তাদের অধীনে কোনো হ্যাচারিতে এ মাছের পোনা উৎপাদন করলে কঠোরভাবে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেই সাথে কোনো পুকুরে বা খামারে এ মাছের চাষ যেন বৃদ্ধি না পায় সে ব্যাপারে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আনন্দ বাজার

ফার্মসএন্ডফার্মার/১৭অক্টোবর২০