পারিবারিকভাবে মিনি হাঁসের খামার গড়ে তুলবেন যেভাবে

53

ই পোষ্টটা আমার সেই বন্ধুদের জন্য যারা ছোট ছাত্র ও অলস সময় পার করা গ্রামের মহিলারা আছ । আপনারা যারা অলস সময় পার করছেন কিছু একটা করতে মনচায় তারা মনোযোগ সহকারে পরলে সময় কাটানো তো হবেই সাথে হাঁসের জল কাকলি দেখে মনকে প্রচুর আনন্দের বন্যায় বানিয়ে দিতে পারবেন কিছুক্ষের জন্য হলেও ছোটবেলায় ফিরে যেতে পারবেন।

আমি এতক্ষন শখের বসে হাঁস পালনের কথা বললাম । আপনার আশে পাশে হয়তো ছোট একটা খাল,বিল,হাউর,পুকুর বা আপনার বাড়ির ছাদে ছোট একটা হাউস করার মত জায়গা আছে সেইসব বন্ধুগন করতে পারেন শখের বসে হাঁসের খামার হাঁসের খামারে শখ হলেও কিন্তু লস হবে না আর শখের বসে যারা হাসের খামার করে তাদের পরিবার অপুষ্টিতে ভোগেনা তাদের পরিবারের মেয়েদের সুস্থবাচ্চা জন্ম দিতে হরলিকস খাওয়া লাগেনা ।হাঁসের ডিমের পুষ্টিগুন বেশি ।অনেক পরিবারে মাঝে মাঘে মাছ মাংশ খাকে না ডিম কিনতে দূরে যেতে হবে বা বাড়িতে টাকা নাই আলু বর্তা ডাল দিয়েই একবেলা কাটিয়ে দেন তাদের পরিবারের জন্য শখের বসে হাঁসের খামার জরুরি 5-10 টা হাঁস থাকলে বছরে একদিন ও বাড়ি থেকে হাঁসের ডিম ফুড়াবে না।

যাইহোক এই মিনি খামারের প্রয়োজনীয় লিখতে গেলে রাত দিন কেটে যাবে আর এগুলো আমরা অনেকই জানি।কিভাবে শুরু করবেন একটি ছোট হাঁসের খামার- জিনডিং অথবা খাকিক্যামবেল জাতের কোন হ্যাচারি থেকে অথবা নিজে দেশিমুরগি দিয়ে 20 পিছ বাচ্চা সংগ্রহ করে অথবা 5-10 পিছ এডাল্ড হাঁস ক্রয় করে ।

আমি 1 দিন বয়স থেকেই পালন পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করছি — আপনি যদি হ্যাচারি থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করেন তবে ব্রোডিং করতে হবে আর দেশিমুরগি দিয়ে ফোটাল মুরগিই ব্রোডিং করবে। হ্যাচারি থেকে বাচ্চা সংগ্রহ করে পানিতে গ্লোকোজ মিশিয়ে তিন ঘন্টা রাখতে হবে তিন ঘন্টা পর ডাক ষ্টাটার খাবার দিতে হবে ।

1 দিন বয়স বয়স থেকে 30 দিন বয়স পযর্ন্ত ডাকষ্টাটার খাবার দিতে হবে 30 দিন বয়স হলে ডাক গ্রোয়ার খাবারের সাথে সাথে পরিবারের ফেলনা খাবার যেমন ভাত ,মাছের নারিভুরি,কাটা আরও অনেক ফলনা খাবার আছে সেই খাবার খাওয়া অভ্যাস করতে হবে এবং 30 দিন বয়সের আগে বাচ্চাকে পানিতে নামানো যাবে না 30 দিনের পর থেকে আস্তে আস্তে পানিতে নামানোর অভ্যাস করাবেন । 4 মাস বয়স হওয়া পযর্ন্ত ডাকগ্রোয়ার খাবার দিবেন 4 মাসের পর লেয়ার ওয়ান একবেলা দিবেন‌ আরেক বেলা দিবেন ডাকগ্রোয়ার সারে চারমাস বয়স হলে 100% ডিম রানিং হলে গ্রোয়ার বন্ধকরে শুধু লেয়ার দিবেন হাঁস বাহিরে যাই খেয়ে আসুক আপনি ফিড যত খেতে পারে ততই দিবেন মনে রাখবেন ও যে পরিমান খাবার বাহির থেকে খেয়ে আসবে সেই পরিমান খাবার বাড়িতে কম খাবে । আপনি ইচ্ছকরে কম খাওয়ালে ডিম পারবেনা যা খাইলো তাই লস আর যদি ও যত খেতে পারে ততদিলে বর্তমান বাজার অনুযায়ি 5 টাকার বেশি ক্ষেতে পারবেনা আর ডিম দেবে 10 টাকার ।হাঁস পালনে লাভ আর লসের মাঝা মাঝি কোন অবসন নাই ।

ডিম দিলে লাভ ডিম না দিলে লস । ভ্যাকসিন – হাঁসের সাধারন দুটো রোগই মারাক্তক একটা হলো ডাকপ্লে যা ভাইরাস বাহিত রোগ আরেক হলো ডাক কলেরা ভেক্টেরিয়া বাহিত রোগ কলেরা হলে চিকিৎসা দিলে 99% হাঁস বাচানো সম্ভব আর ডাক প্লে রোগে 90% পযর্ন্ত হাঁস মারা যেতে পারে । এই দুই রোগের ভ্যাকসিনই উপজেলা প্রানিসম্পদ হাসপাতালে নামে মাত্র মূল্যে পাওয়া যায় । ডাকপ্লে ভ্যাকসিন দেওয়ার নিয়ম 15 দিন বয়সে 100 হাঁসের জন্য একটি ডায়াল 100 সিসি পানিতে মিশিয়ে 1 সিসি করে বুকের মাংসে প্রয়োগ করতে হবে 45 দিন বয়সে একই নিয়মে ভোষ্টার ডোজ দিবেন এবং পরবর্তি 4 মাস পরপর এই ভ্যাকসিন রিপিট করবেন। কেউ বুকের মাংসে ভ্যাকসিন করতে গিয়ে ফুসফুস ,কলিজা ছিদ্রকরে ফেলেন নিয়মের কথা বুকের মাংসে প্রয়োগ করতে হবে কিন্তু আমি সবসময় রানের মাংসে প্রয়োগ করি এখন ও কোন সমস্যা হয়নি ।65-70 দিন বয়সে ডাক কলেরা ভ্যাকসিন 1 সিসিকরে চামড়ার নিচে মাংসের উপরে প্রয়োগ করবে সাবধানতা অবলম্বন করবেন যাতে নিডেল মাংসে ঢুকে না যায় একই নিয়েমে 100-105 দিন বয়সে কলেরার ভোষ্টার ডোজ দিবেন আশে করি এই দুইটা ভ্যাকসিন করলে হাঁসের বড় ধরনের কোন রোগ হবে না।45 দিন ও 120 দিন বয়সে কৃর্মি কোর্স করিয়ে নিবেন।

ফার্মসএন্ডফার্মার/২০সেপ্টেম্বর২০