আনোয়ার সিমেন্ট শীট ব্যবহারে খামারীর উৎপাদন খরচ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ভাগ কমে আসে

ডা. মোসাদ্দেক হোসেন- কনসালটেন্ট, আনোয়ার সিমেন্ট শীট

33

(ডা. মোসাদ্দেক হোসেন, কনসালটেন্ট, আনোয়ার সিমেন্ট শীট। সাবেক মহাপরিচালক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, ঢাকা। তিনি ১৯৫৪ সনে জামালপুর জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। গ্রামের পিতৃ গৃহে মাতা-পিতার আদরে সযত্নে বেড়ে ওঠেন। নিজ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠ চুকিয়ে দেওয়ানগঞ্জ কো-অপারেটিভ হাইস্কুল থেকে কৃতিত্বের সাথে এসএসসি উত্তীর্ণ হন। দেশের উত্তরাঞ্চলের তৎকালীন সময়ের সেরা বিদ্যাপিঠ রংপুর কারমাইকেল কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে অধ্যায়নকালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়। সেই সময়কার মেধাবী ছাত্র মোসাদ্দেক হোসেন দেশ মাতৃকাকে স্বাধীন করার জন্যে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। দেশের মানুষের বিশাল আত্মত্যাগে লাল সবুজের পতাকা বিজয় লাভ করে। ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা মোসাদ্দেক হোসেন পড়াশুনায় মনোনিবেশ করেন। সফলতার স্বাক্ষর রেখে এইচএসসি পাশ করে তৎকালীন উপমহাদেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বর্তমান নাম) ভর্তি হন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Doctor of Veterinary Science এ স্নাতক এবং মাস্টার্স ডিগ্রী অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থাকা অবস্থায়ই Veterinary Science ও Poultry Science এর উপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্যে বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি চাকুরী জীবনের শুরুতে বাংলাদেশ লাইভস্টক সার্ভিসে যোগদান করেন। চাকুরীর প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি Poultry Science এর উপর দেশ বিদেশে বিভিন্ন কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি একজন ভাগ্যবান ব্যক্তি কারণ সরকারী চাকুরিতে থাকা অবস্থায় প্রশিক্ষণ ও সরকারী কাজে পৃথিবীর প্রায় ৫২টি দেশ ভ্রমণ করেন। চাকুরীরত অবস্থায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন শেষে লাইভস্টক সার্ভিসের মহাপরিচালকের সর্বোচ্চ পদ অলংকৃত করেন। অত্যন্ত সম্মানের সাথে ২০১৪ সনে সরকারী চাকুরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে দেশের অত্যন্ত পুরানো ও সনামধন্য প্রতিষ্ঠান আনোয়ার গ্রুপে কনসালটেন্ট হিসেবে আনোয়ার সিমেন্ট শীটে যোগদান করেন। কনসালটেন্টের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি দেশের পোলট্রি ও ডেইরি সেক্টরের উন্নয়নের জন্যে নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন।

সম্প্রতি পোলট্রি ও প্রাণিসম্পদ সেক্টরের সকলের সুপরিচিত, স্বমহিমায় বিদ্যমান ব্যক্তিত্ব ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন স্যারের কাছ থেকে আনোয়ার সিমেন্ট শীটের কার্যক্রম ও দেশের প্রাণিজ আমিষ সরবরাহকারী একমাত্র পোলট্রি ও ডেইরি সেক্টরের অবস্থা জানতে এক সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়। দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় অনলাইন পোর্টাল ফার্মস এন্ড ফার্মার ২৪ ডট কমের এর প্রধান সম্পাদক/সিইও মোঃ শফিকুল ইসলাম উক্ত সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন।

আমাদের দেশে ভূমির তুলনায় জনসংখ্যা অনেক বেশি। বনজ সম্পদ কম। আমরা প্রচুর কার্বন ডাই অক্সাইড উৎপাদন করি। স্বাভাবিকের থেকে আমাদের তাপমাত্রা বেশি। আমাদের পরিবেশে হিট স্ট্রেস ছাড়াও ক্ষতিকর ভারি পদার্থ রয়েছে। এতসব ক্ষতিকর বিষয় থাকার ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবন-যাপন যেমন করে বিষিয়ে উঠছে। ঠিক তেমনিভাবে আমাদের পোলট্রি ও ডেইরি খামারগুলোতে নানবিধ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। ফলে মুরগি হিট স্ট্রেসে ভোগে অসুস্থ হয়। লেয়ার মুরগির ডিম পাড়ার হার কমে যায়। ব্রয়লার মুরগির সময়মত ওজন আসে না। মুরগি ঠিকমত খাবার খায় না। গবাদি পশুর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা দেখা যায়। হিট স্ট্রেসে কোনো কোনো সময় মুরগি মারা যায়, গবাদি পশুও মারা যায়। ফলে খামারি অর্থনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতির মধ্যে পড়ে।

উপরে বর্ণিত ক্ষতির হাত থেকে আমাদের পোলট্রি ও ডেইরি সেক্টরকে বাঁচানো অর্থাৎ খামারিদেরকে রক্ষার জন্যে আনোয়ার সিমেন্ট শীট দিয়ে স্বাস্থ সম্মত ও পরিবেশ সম্মতভাবে খামার বা ঘর তৈরি করতে হবে। পোলট্রি ও গবাদি পশুকে সুন্দর যত্ন করে লালন-পালন করে উৎপাদন ঠিক রাখতে আনোয়ার সিমেন্ট শীট ব্যবহার করতে হবে। সত্যিকার অর্থে আনোয়ার সিমেন্ট শীট দেশের জন্যে পরিবেশের জন্যে ভালো কাজ করছে। আনোয়ার সিমেন্ট শীট না থাকলে পোলট্রি ও ডেইরি শিল্প আরো ক্ষতির মধ্যে পরত বলে আমাদের বিশ্বাস।

এক প্রশ্নের জবাবে ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন পৃথিবীর প্রায় ১৪১টি দেশে Asbestors অর্থাৎ আনোয়ার সিমেন্ট শীট টাইপের পণ্য ব্যবহার হচ্ছে। আনোয়ার সিমেন্ট শীট ২ রকমের হয়। ১টি তৈরি হয় 6mm আরেকটি তৈরি হয় 4mm পুরুত্ব বা ঘনতের¡। সিমেন্ট শীট এর ৬টি স্তর রয়েছে। এর মধ্যে ১ম ৩টি স্তর হচ্ছে সূর্যের তাপকে প্রতিহত করে। সূর্যের তাপকে ঘরের ভিতর ঢুকতে দেয় না। সিমেন্ট শীট এর ভিতরে Innelation আছে বিধায় বাকী ৩টি স্তরে সূর্যের তাপকে ধরে রাখে। আস্তে আস্তে তাপকে Deskpass করে দেয়। ঘরের ভিতরে যাতে তাপ যেতে না পারে সেই কাজটিই করে।

সিমেন্ট শীট ৬ স্তর বিশিষ্ট হওয়ায় ঘরে গ্যাস জমতে পারে না। Bio Security নিযন্ত্রণ রাখে। সিমেন্ট শীটে জং ধরে না, আগুনে পুড়ে না। মূল কথা হচ্ছে সিমেন্ট শীট তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। বুয়েট থেকে পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে, সিমেন্ট শীট ৪ থেকে ৫ ডিগ্রী পর্যন্ত তাপ নিয়ন্ত্রণ করে। আনোয়ার সিমেন্ট শীট ব্যবহার করলে খামারে শীতে, বর্ষায় ও গরমে মোটা পর্দা ব্যবহার করতে হয় না।

আমাদের পোলট্রি খামার ঝড়ে পড়ার মূল কারণ উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া। বর্তমান পরিসংখ্যানে দেখা গেছে আনোয়ার সিমেন্ট শীট ব্যবহারে উৎপাদন খরচ প্রায় ২৫ থেকে ৩০ ভাগ কমে আসে।

আনোয়ার গ্রুপে কাজ করার কারণে ডা. মোসাদ্দেক হোসেন এর নিয়মিত পোলট্রি ও ডেইরি খামারীদের সাথে যোগাযোগ হয়। আর সে জন্যে তিনি দেশের খামারীদের হাল নাগাদ অবস্থা সরাসরি জানতে পারেন। ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বলেন, আনোয়ার সিমেন্ট শীটে তার সাথে ডিএলএসের সাবেক আরো দশ জন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাজ করেন। আনোয়ার সিমেন্ট শীটের চলমান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে পোলট্রি ও ডেইরি খামারীদের নিয়ে নিয়মিত সেমিনার ও প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম করা। আমরা প্রান্তিক পর্যায়ে ৫০/৬০জন করে পোলট্রি খামারি ও ৫০/৬০জন করে ডেইরি খামারি নিয়ে আলাদা আলাদা করে প্রোগ্রামগুলো করে থাকি। আনোয়ার গ্রুপের মত এত প্রোগ্রাম সরকারী বা বেসরকারী পর্যায়ে দেশে আর কোনো প্রতিষ্ঠান করে বলে আমার জানা নেই।

দ্বিতীয় পর্ব: পোলট্রি ও ডেইরি শিল্প সংক্রান্ত

ডা. মোসাদ্দেক হোসেন স্যারের চাকুরী কালীন আমাদের দেশের পোলট্রি শিল্প ধীরে ধীরে অগ্রসর হচ্ছিল। সেই সময়কার পোলট্রি শিল্পকে উন্নতির সোপানে পৌঁছে দিতে তখন থেকেই খামারীদের সাথে একত্রিত হয়ে কাজ করেছেন তিনি। লাইভস্টক বিভাগের মহাপরিচালক থাকা অবস্থায় সেক্টরের কাজে খুবই ব্যস্ত সময় পার করেছেন। স্যার বলেন, আমি অফিসিয়াল কোনো কাজে মন্ত্রনালয়ে ব্যস্ত আছি ঠিক তখনই পোলট্রি নেতৃবৃন্দ আমাকে তাদের কাজের জন্যে খুঁেজ পেয়েছে। অফিসিয়াল ব্যস্ততা দেখিয়ে সরিয়ে না দিয়ে তাদের কাজ করে দিয়েছি। এভাবেই আমি পোলট্রি শিল্পের উন্নয়নে নিজেকে সমার্পণ করেছিলাম। সরকারী পলিসি বা বিধি নিষেধ এর কারণে যাতে কাজ বন্ধ না থাকে সে জন্যে আইন অমান্য করে নয় বরং আইনকে সহজিকরণ করে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করেছি। উদ্যোক্তাগণ যাতে সহজে হ্যাচারী ও ফিড মিল স্থাপন করতে পারে সেদিকে আমার নজর ছিল সবসময়। বিধায় পোলট্রি শিল্প আজ এত বড় হয়েছে।

কিন্তু পোলট্রি শিল্পের বর্তমান অবস্থা দেখতে আমার কষ্ট হয়। এখন যারা বড় বড় ফিড মিলার, বড় হ্যাচারীর মালিক, বড় খামারের মালিক তাদের মধ্যে সমন্বয়হীনতা কাজ করছে বলে মনে হয়। আর ছোট বা প্রান্তিক খামারীদেরকে তারা মূল্যায়ন করেন না। আমি ডিজি থাকা অবস্থায় একবার উদ্যোগ নিয়েছিলাম যে, বাচ্চার মূল্য, ডিমের মূল্য নিয়ন্ত্রণ করতে। কারণ, যাতে বাচ্চা বেশি মূল্যে বিক্রি না হয় আবার কম মূল্যেও বিক্রি না হয়। ডিমের ক্ষেত্রেও তাই করেছিলাম। যাতে খামারি উপকৃত হয়।

আবার দেখা যেত পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ডিম আসছে, বাচ্চা আসছে। আমরা তখন খামারীদের সাথে নিয়ে রাতবিরাত বিভিন্ন এলাকায় পাহারা দিতাম যাতে অবৈধভাবে আসা ডিম বা বাচ্চা নামাতে না পাড়ে। আমার মনে আছে দোষকৃতকারীদের ধরার জন্যে রাত ২.০০টা, ২.৩০টায় গাজীপুর চৌরাস্তাসহ বিভিন্ন স্পটে গিয়েছি।

এক প্রশ্নের উত্তরে ডা. মোসাদ্দেক বলেন, আমি মনে করি আমাদের দেশে এখন যারা একদিন বয়সের মুরগির বাচ্চা, ডিম, ব্রয়লার মিট ও ফিড উৎপাদন করে তারা কোনো দূর্নীতি করে না। গত দেড় দু’মাস আগে ডিমের মূল্য বাড়ার অন্যতম কারণ ছিল বড় বড় কমার্শিয়াল ফার্ম। তারা দৈনিক ২০ থেকে ২৫ লক্ষ ডিম উৎপাদন করেন। এ ডিম যদি তারা ২/১দিন ধরে রাখে তাহলে বাজারে ডিমের চাহিদা বেড়ে যায়। ডিমের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সাধারণ খামারি বা আড়ৎদার গণ দোষী নন। ভোক্তা অধিকার বা অভিযোগ কমিশন যেভাবে খামারি ও আড়ৎদারদের হয়রানি করেছে তা কাম্য ছিল না। এমনকি তাদেরকে জেল জরিমানাও করেছে যা অতি বাড়াবাড়ি হয়েছে বলে আমি মনে করি।

ডা. মোসাদ্দেক বলেন, বর্তমানে পোলট্রি খাদ্যের মূল্য অনেক বেশি। বিশেষ করে যে দুটি পণ্য বেশি লাগে তা হচ্ছে ভূট্টা ও সয়ামিল। আমাদের দেশে সয়া সীড আমদানী হয়। সয়া সীড থেকে তেল উৎপন্ন হয়। ভূষিটাকে সয়া কেক বা সয়ামিল বলে। সয়ামিল প্রোটিন সোর্স হিসেবে পোলট্রি খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। ইউক্রেন রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্ব যেখানে টালমাটাল। দেশে চাহিদা অনুপাতে ভূট্টা ও সয়ামিলের বড় অভাব। ঠিক তখনই বানিজ্য মন্ত্রনালয় আমাদের দেশের ২/১টি প্রতিষ্ঠান যারা সয়ামিল উৎপন্ন করে তাদেরকে পার্শ্ববর্তী দেশে রপ্তাণি করার অনুমোদন দেয়। নিজের দেশের শিল্পের খবর নেই অথচ তারা পার্শ্ববর্তী দেশে রপ্তানী করে বেশি মুনাফা অর্জন করে। এ হচ্ছে আমাদের দেশের সরকার ও ব্যবসায়ীদের দেশপ্রেম। আমরা কার কাছে যাব? কে আছে আমাদের অভিভাবক?

সে যাই হোক, স্যার আর একটি বিষয় খুব গুরুত্ব সহকারে বলেন, তা হচ্ছে-আমাদের কৃষি শিল্পের মধ্যে এখন সবচেয়ে বড় হচ্ছে পোলট্রি ও ডেইরি শিল্প। পোলট্রি ও ডেইরি শিল্প যে কত বড় হয়েছে, সে সম্পর্কে আমাদের সরকার সম্যক অবগত আছে বলে মনে হয় না। এ দেশের রাজনীতিবিদ, সরকারী আমলাসহ অনেকেই এ সেক্টরকে যথাযথ মূল্যায়ন করে না। মূল্যায়ন না করার কারণ হচ্ছে ছোট বড় খামারি ও ছোট বড় ফিড মিলার কারো মধ্যে সমন্বয় নেই। সমন্বিত লিডারশীপ না থাকা। এ ক্ষেত্রে গার্মেন্টস সেক্টর আমাদের সামনে একটি বড় উদাহরণ।

স্যার বলেন, আমাদের এখন টার্গেট হচ্ছে ডিম ও ব্রয়লার মিট বিদেশে রপ্তানী করার। কিন্তু আমরা রপ্তানীর উদ্যোগ নিতে না পারার কারণ, Contamination আমাদেরকে Bio Security, Safety & Quality নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা রপ্তানী করা যাবে না। দেখা যাচ্ছে ফিড মিলারগণ খাদ্যে এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। খামারীগণ মুরগির অসুস্থতায় এন্টিবায়োটিক ব্যবহার করেন। এন্টিবায়োটিক পৃথিবী জুড়ে ১টি বড় সমস্যা। আমাদের দেশও তার বাহিরে নয়। আরো বাড়তি আছে Toxin Meterials. এ সকল কারণে আমরা অর্গানিক পোলট্রি উৎপাদন করতে পারছি না। আমার দেশের মুরগির তুলনায় ইউরোপ আমেরিকার মুরগিতে নিউট্রিশন বেশি থাকে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ মধ্য প্রাচ্যসহ পৃথিবীর উন্নত দেশে মুরগি রপ্তানী করে। কিন্তু আমরা পারছি না। আরও কারণ আছে, আমাদের খাদ্য ও মেডিসিনের মূল্য বৃদ্ধির কারণে ৩০ থেকে ৪০ ভাগ খামার ঝড়ে পড়ছে।

প্রাণিসম্পদ বিভাগ এদেশের মানুষের জন্যে আমিষ সরবরাহ করছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করছে। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। জিডিপিতে তার অংশ প্রায় ১.৯ভাগ। এখানে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে। কৃষিমন্ত্রী মহোদয় এ সেক্টরের সাথে সম্পৃক্ত মানুষ। তাকে আমাদের বুঝতে হবে। তার সহায়তা নিয়ে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে বলে দেশে ভূট্টা ও সয়াবিনের চাষ বৃদ্ধি করতে হবে।

এ শিল্প আমাদেরকে টিকিয়ে রাখতে হবে। সরকারের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সেক্টরের ভিতর বাহির সব কিছইু জানা দরকার।