প্রকৃতি ও মানুষের চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

101

চিত্রশিল্পী

বাংলাদেশে চারুশিল্পে যাদের অনন্য অবদান, তাদের অন্যতম সৈয়দ জাহাঙ্গীর। একুশে পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশের প্রথিতযশা এই চিত্রশিল্পীর আজ (২৯ ডিসেম্বর) রোববার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী।

গত বছরের ঠিক এই দিনে ৮৩ বছর বয়সে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের নিজ বাসভবনে তিনি ইন্তেকাল করেন। সৈয়দ জাহাঙ্গীরের প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করে পরিবার ও অনুসারীদের পক্ষ থেকে দোয়া চাওয়া হয়েছে।

চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীরের ছবিতে খুব সযত্নেই উঠে এসেছে বাংলাদেশের প্রকৃতি ও মানুষের নানা অনুষঙ্গ। তাঁর নির্মাণশৈলীতে ছিল সহজ ছন্দ, যা তাঁর সৃষ্টিকে করে তুলেছে তাৎপর্যময়। এই চিত্রশিল্পীর ছবিতে বারবারই উঠে এসেছে মানুষের শ্রম, ভালোবাসা ও বন্ধনের দৃশ্যকাব্য। মূর্ত ও বিমূর্ত উভয় ক্ষেত্রেই সমকালীন চিত্রকলা অঙ্গনে তিনি রেখেছেন সাফল্যের স্বাক্ষর। দেশের মাটি ও মানুষের মর্মযাতনার অনুভব তাঁর সৃজনধারাকে করেছে বৈশিষ্ট্যময়। তাঁর শিল্পচিত্রের বেশিরভাগ জুড়ে ছিল বাংলাদেশের গ্রামের মুক্ত আকাশ, নীলে-নীল ভরা বিশালতা। তাঁর বেশিরভাগ ছবিতে ক্যানভাসের জমিনজুড়ে রাজত্ব করেছে নীল ও হলুদ দুই রং। প্রকৃতি ও ঋতু পরিবর্তন ছিল তাঁর ছবির অন্যতম বৈশিষ্ট্য। নিজ সৃষ্টিকর্মেই সারা জীবন বেঁচে থাকবেন সৈয়দ জাহাঙ্গীর।

১৯৩৫ সালের ১ জানুয়ারি সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তেঁতুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন চিত্রশিল্পী সৈয়দ জাহাঙ্গীর। প্রায় ২২ বছর পেশাদার চিত্রকর হিসেবে কাজ করার পর তিনি ১৯৭৭ সালে শিল্পকলা একাডেমির শিল্পকলা বিভাগের প্রধান হিসেবে যোগ দেন। সৈয়দ জাহাঙ্গীর শিল্পকলা একাডেমীর পরিচালক হিসেবে নিযুক্ত ছিলেন। শিল্পকলা একাডেমীতে চারুকলা বিভাগ চালু করেন তিনি। চাকরি জীবনে এই চিত্রশিল্পীর সবচেয়ে বড় অবদান দ্বিবার্ষিক এশীয় চিত্রকলা প্রদর্শনীর প্রবর্তন। তাঁর বিখ্যাত প্রদর্শনী ও সিরিজের নাম হচ্ছে ‘আত্মার উজ্জীবন’, ‘উল্লাস’, ‘ধ্বনি’, ‘অজানা অন্বেষা’। ২০১৮ সালে মৃত্যুর পর তাঁর প্রিয় গ্রামেই তাঁকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। সৈয়দ জাহাঙ্গীর ১৯৮৫ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়াও তিনি ১৯৯২ সালে চারুশিল্পী সংসদের বিশেষ সম্মাননা, ২০০০ সালে মাইকেল মধুসূদন পুরস্কার, ২০০৫ সালে শশীভূষণ সম্মাননা, ২০১০ সালে বার্জার বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আজীবন সম্মাননা এবং ২০১১ সালে হামিদুর রহমান পুরস্কার লাভ করেন। সৈয়দ জাহাঙ্গীরের প্রয়াণ দিবসে তাঁকে স্মরণ করে দেশে ও বিদেশে দোয়া এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।