ফরহাদের আঙিনা বাগানি থেকে কৃষি উদ্যোক্তা হওয়ার গল্প

147

বাড়ির উঠানকে ফলের বাগানে রূপান্তরিত করে বেশ আলোচিত হয়েছেন খন্দকার ফরহাদুল হক (৪০)। প্রতিদিন তার আঙিনা বাগান দেখতে শৌখিন মানুষ যাচ্ছেন ও পরামর্শ নিচ্ছেন। তিন বছর আগে গড়ে তোলা আঙিনা বাগান থেকে অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি এখন বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন। ফরহাদ ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার পৌর এলাকার বলিদা পাড়ার বাসিন্দা।

ফরহাদ জানান, তিনি একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। ভালোলাগা থেকে ছুটির দিনগুলোতে বিভিন্ন কৃষি খামার পরিদর্শন করতেন এবং সেখান থেকে চারা সংগ্রহ করতেন। ছুটির দিন ছাড়া তার নিজের পক্ষে গাছের পরিচর্যা করা সম্ভব নয়, তাই গ্রামের বাড়িতে কৃষিজমি থাকলেও বাড়ির উঠানকেই তিনি পরীক্ষকামূলক চাষ হিসেবে বেছে নিয়েছেন। তিন বছর আগে গড়ে তোলা আঙিনা বাগানে বিভিন্ন জাতের আম বিশেষ করে লেট ভ্যারাইটি যেমন গৌড় মতি, রেড তাইওয়ান, গ্রিন তাইওয়ান, ব্যানানা ম্যাংগো, বারি-৪ ইত্যাদিসহ লিচু, লংগান, মাল্টা, পেয়ারা রয়েছে।

চাকরি ছেড়ে ফরহাদ এখন ব্যবসা করছেন এবং আঙিনা বাগান থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি গ্রামের বাড়িতে কৃষি প্রজেক্ট গড়ে তুলেছেন। তার প্রজেক্টে বিভিন্ন জাতের আম, ড্রাগন ও আঙুর চাষ রয়েছে।

ফরহাদের আঙিনা বাগান নিয়ে কথা হয় রাজশাহীর কৃষিতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান মনিরের সঙ্গে তিনি ফরহাদের এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তিনি আরও বলেন, যারা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছেন তারা ফরহাদ সাহেবের মতো বাড়ির আঙিনায় পরীক্ষামূলক চাষ করে পরে মাঠে বাণিজ্যিক চাষে গেলে সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। মনির ফরহাদের কৃষি প্রজেক্টের বাণিজ্যিক সফলতা কামনা করেছেন।