বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাতাল করা ঘ্রাণ!

306

শরিষা

বাংলার মাঠে মাঠে এই শীতে প্রকৃতি বিছিয়েছে হলুদ গালিচা। ঢাকা শহরের অট্টালিকার ভীড় ছেড়ে কোনো দিকে একটু বেড়িয়ে পড়লেই চোখে পড়বে প্রকৃতির এই অপূর্ব দৃশ্য। যে দিকেই চোখ যাবে শুধুই হলুদ আর হলুদ। গ্রাম-বাংলার চারপাশ এখন সরিষা ক্ষেতে ঢাকা। যেদিকেই চোখ যায় শুধু হলুদ আর শুধুই সরিষা ক্ষেত।

প্রকৃতির নির্মল বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সরিষা ফুলের মাতাল করা ঘ্রাণ। যে কোনো দিন কিছুটা সময় করে তাই ঘুরে আসতে পারেন কাছে-দূরের কোনো এক সরিষা ক্ষেত থেকে। ঢাকার খুব কাছে সরিষা ফুলের সুন্দর রাজ্য মানিকনগঞ্জ ও সাভার। সাভার হেমায়েতপুর থেকে সিঙ্গাইরের রাস্তা ধরে কিছুদূর গেলে ধলেশ্বরী ব্রিজ। সেটা পেরিয়ে বিন্নাডিঙ্গি বাজার থেকে বাঁয়ের সড়কে কয়েক কিলোমিটার চললেই দেখবেন শুধু হলুদ আর হলুদ।

মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে সরিষা ক্ষেতে শিশুদের দুরন্তপনা। সেখানে সড়কের দুইপাশে পাওয়া যাবে বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেত। এছাড়া মানিকনগর থেকে সামনে সিঙ্গাইরের সবখানেই আছে সরিষা ফুলের রাজ্য। সেখান থেকে আরেকটু দূরে গেলে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর কিংবা ঝিটকা এলাকায়ও আছে প্রচুর সরিষা ক্ষেত।
ঢাকার কাছের আরেকটি সরিষা ক্ষেত দেখতে যেতে পারেন কেরাণিগঞ্জের রোহিতপুর এলাকায়। ঢাকার বাবুবাজারে বুড়িগঙ্গা সেতু পেরিয়ে সামনে দোহারগামী সড়ক ধরে যেতে হবে রোহিতপুর। গুলিস্তান এলাকা থেকে রোহিতপুরে যাওয়ার লেগুনা সার্ভিস আছে।

ঢাকার কাছে সরিষা ফুলের আরেক রাজ্য মুন্সীগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার সাতগাঁও এলাকা। জায়গাটি ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক লাগোয়া। এ জায়গাও সরিষা ফুলে ছেয়ে আছে এখন। তবে এখানকার সরিষা ক্ষেতে বসেছে মৌচাষিরা। সরিষা ক্ষেতে ভ্রমণের সঙ্গে এখানে তাই দেখতে পাবেন সরিষা ক্ষেতে মধু চাষের কৌশলও। এছাড়া মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীর সোনারং এলাকায়ও আছে প্রচুর সরিষা ক্ষেত।

শীতের সকালে শিশির ভেজা ফসলের মাঠের এমন সৌন্দর্য দেশের সর্বত্র। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, মওসুমটা এখন সরিষার। তাই গ্রামের মাঠের পর মাঠ সরিষার আবাদ হয়েছে। হলুদে ছেয়ে গেছে আদিগন্ত ফসলের ক্ষেত। মাঠজুড়ে তাই ফুলের মধু আহরণে ব্যস্ত মৌমাছিরা গুনগুনিয়ে ফুল থেকে ফুলে উড়ে বেড়াচ্ছে। দৃষ্টিনন্দন সরিষার ক্ষেত শীতের সকালে মাঠজুড়ে সর্ষে ফুলের হলুদ চাদরের মোহনীয় দৃশ্য উপভোগ করার মতো।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা জানান, যথাযথ প্রশিক্ষণ, বাজারজাতকরণের অসুবিধা দূর এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে উৎপাদন দ্বিগুণ করা সম্ভব। বহির্বিশ্বে ফসলের পরাগায়নের জন্য এ জাতীয় মৌচাষিদের অর্থ দিয়ে জমিতে নিয়ে যেতে হয়। আর আমাদের দেশে উল্টো জমির মালিককে টাকা দিয়ে জমি থেকে মধু আহরণ করতে হচ্ছে। তাদের ধারণা, শস্যক্ষেত থেকে মৌমাছি মধু নিয়ে গেলে শস্যের উৎপাদন ব্যাহত হবে। এ জন্য কৃষকদের সচেতন করতে জাতীয় উদ্যোগ দরকার বলে অভিজ্ঞরা মনে করেন।