মাছের ক্ষত রোগের কারণ ও এন্টিবায়োটিকের পরিবর্তে কম খরচে হারবাল সমাধান

86

মাছের ক্ষত রোগ বা Epizootic ulcerative syndrome (EUS) সম্পর্কে মৎস্য চাষিরা কম-বেশি সকলেই জানে আবার অনেকেই জানেনা, এটাকে অনেকে red spot disease (RSD) ও অনেকে বলে থাকে..!

এ’রোগ সম্পর্কে ভালোভাবে জানার উপায় আক্রান্ত মাছের গায়ে ক্ষত বা ঘা জনিত লাল দাগ দেখা যায়।

এই দাগের আকৃতি ক্রমেই বৃদ্ধি পেতে থাকে। ঘা মাছের লেজের গোড়া, পিঠ ও মুখের দিকেই বেশি হয়ে থাকে।

ঘায়ের স্থানে চাপ দিলে কখনো কখনো পুঁজও বের হতে পারে।

আজ আলোচনা করব শীত কালে মাছের ক্ষত রোগের হারবাল চিকিৎসা নিয়ে…

পাশাপাশি গরম কালেও মাছের ক্ষত রোগের হারবাল সমাধান দেওয়ার চেষ্টা করব ইন্সাআল্লাহ….

ক্ষত রোগ হওয়ার কত গুলো কারন আছে, এর মধ্যে অন্যতম কারন গুলো নিচে দেওয়া হল_____________

১/ পানির তাপমাত্রা ৩২° সেঃ এর বেশী হলে, আবার তাপমাত্রা বেশী কমে গেলে ১৫° সেঃ এর কম হলে।

২/ মাছের খাবারে যদি সঠিক মাত্রায় উপাদান না থাকিলে।

৩/ পানিতে এ্যালকালিনিটির ৭০ পিপিএম এর নিচে নেমে গেলে।

৪/ পানির পিএইচ ৬.৫ এর নিচে নেমে গেলে।

৫/ হার্ডনেস ৪৫এমজি/লিটার এর নিচে কমে গেলে।

৬/ পানিতে ক্লোরাইডের পরিমাণ ৩পিপিএম এর নিচে নেমে গেলে।

৭/ আবহাওয়ার (তাপমাত্রা) পরিবর্তনের সময় অথাৎ শীত আসার আগ মুহূর্তে ও শীত চলে যাওয়ার আগ মুহূর্তে এই রোগের প্রার্দুভাব বেশী দেখা যায়।

৮/ খাবারে যদি ফলস প্রোটিন থাকে (অনেকে এমন রমেটেরিয়াল কিনে যেখানে ইউরিয়া ব্যবহার হয়েছিল প্রোটিন বেশী দেখানোর জন্য)।

৯/ খাদ্যে টক্সিসিটি থাকলে।

১০/ বাণিজ্যিক চাষের পুকুরে নিয়ম করে পানি পরিবর্তন না করলে।

১১/ চাষের পুকুরে নিয়ম করে চুন প্রয়োগ না করলে।

১২/ বানিজ্যিক চাষের পুকুরে সার্বিক পরিবেশ ঠিক রাখতে নিয়ম করে প্রোবায়োটিক ব্যবহার না করলে।

১৩/ খাবারে ভাল মানের রমেটেরিয়াল ব্যবহার না করলে।

১৪/ শুধু প্রোটিনের ভিত্তিতে রমেটেরিয়াল কিনলে কিন্তু এমাইনো এসিড প্রোফাইলের দিকে খেয়াল না করলে।

★শীতকালে ক্ষত রোগের হারবাল সমাধান

২কেজি লবন+২কেজি রসুন বাটা+Aquaxide Plus ৩৫০ এমএল
(ফরমুলাঃ Alkyldimethylbenzylammonium chloride ৩৩% ও Glutaraldehyde ৩০%)
সাথে ৪০ লিটার পানিতে মিশিয়ে আনুমানিক ৩০ শতকের পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে।

তার সাথে সাথে আলাদাভাবে ৩ কেজি একুয়া নিম পরিমাণ মত পানির সাথে মিশিয়ে ৩০ শতক পুকুরে প্রয়োগ করুন এবং

প্রতি কেজি খাবারের সাথে ৭ – ১০ গ্রাম রসুন বাটা ও ১ গ্রাম পান পাতা (পান পাতা বেটে রস) মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।

ক্ষেত্র বিশেষে ১১ দিন ও খাওয়াতে হবে।

♥ইনশাআল্লাহ পজেটিভ ফল পাবেন♥

একুয়া নিমঃ একুয়া নিম হচ্ছে নিমের নির্যাস ও মিনারেলস এর সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত।

★গ্রীষ্ম কালে ক্ষত রোগের হারবাল সমাধান

২কেজি লবন+২কেজি রসুন বাটা+Aquaxide Plus ২৫০ এমএল
(ফরমুলাঃ Alkyldimethylbenzylammonium chloride ৩৩% ও Glutaraldehyde ৩০%)
সাথে ৪০ লিটার পানিতে মিশিয়ে আনুমানিক ৩০ শতকের পুকুরে ছিটিয়ে দিতে হবে

তার সাথে সাথে আলাদাভাবে ৩ কেজি একুয়া নিম পরিমাণ মত পানির সাথে মিশিয়ে ৩০ শতক পুকুরে প্রয়োগ করুন এবং

প্রতি কেজি খাবারের সাথে ৫ গ্রাম রসুন বাটা ও ১ গ্রাম পান পাতা (পান পাতা বেটে রস) মিশিয়ে ৫-৭ দিন খাওয়াতে হবে।

♥ইনশাআল্লাহ পজেটিভ ফল পাবেন♥

★শীতকালে ক্ষত রোগের প্রতিরোধে করনীয়

আমাদের সব সময় মনে রাখা দরকার মাছের রোগ হলে চিকিৎসা বা প্রতিকারের পরিবর্তে প্রতিরোধ উত্তম।

তাই আগামি শীতে আপনার মাছকে সুস্থ্য রাখতে নিয়ম করে চুন+নুন, একুয়া নিম, প্রোবায়োটিক ও প্রজাতি ভেদে উকুন নাশক প্রয়োগ করুন।

সতর্কতার অংশ হিসেবে শীতের মাসে ৩ মাস সময় ৫ – ৭ দিন প্রতিকেজি খাদ্যের সাথে ৫ গ্রাম করে রসুন বাটা খাওয়াতে পারেন।

বিঃ দ্রঃ মাছের যেকোন সমস্যায় পরামর্শের জন্য মৎস্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

ফার্মসএন্ডফার্মার/২২সেপ্টেম্বর২০