মাছ চাষে সৃষ্ট ঝুকি ও করনীয়

66

আসলে যতক্ষণ প্রকৃতি সহ্য করতে পারে ততক্ষণই সহ্য করে। যদি কেউ অধিক ঘনত্বে মাছ চাষ করতে চান ; তাহলে বিশেষ কৌশলগুলি অবশ্যই গ্রহন করতে হবে।
যেমন;-
-পানি পরিবর্তন,
– পানি নাড়ানো ও
– বায়ু সঞ্চালন।
– সেই সাথে চুন -লবনের ব্যবহার!

আপনারা ভাল করে জেনে রাখুন এই ব্যাপারটা ;
সেটা হল,
“প্রত্যেকটা প্রানীর জন্য সেটির মল-মূত্রই হচ্ছে পরিতাজ্য এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই তা’ হচ্ছে চরম ক্ষতিকর”!

তার ব্যতিক্রমও আছে; যেমন অনেক মাছই আবার পুষ্টি প্রয়োজন মেটানোর জন্য নিজের মল খাদ্য গ্রহন করতে পারে!

তেলাপিয়া ও মাগুর মাছ নিজেরটা সহ অন্য মাছেরও মল অন্তত খাদ্য হিসাবে গ্রহন করতে পারে।

সাধারনতঃ মাছের মলে কম হলেও মূত্রে “এ্যামোনিয়ার” উপস্থিতি উল্লেখ যোগ্য!

কোথাও অধিক ঘনত্বে মাছ উতপাদন করতে চাইলে প্রচুর খাবার প্রয়োগের কারনে প্রচুর মল-মুত্র মাছ ত্যাগ করবে।

মূত্রে উপস্থিত এই এ্যামোনিয়ার উপস্থিতি যদি গ্রহন যোগ্য মাত্রা পার হয়ে যায় তখন মাগুর মাছকেও কাহিল হতে দেখা যায়!

এমন অবস্থায় মাছের খাদ্য গ্রহন চাহিদাও কমে যায়;
আর সাথে সাথেই মাছের দূর্বলতা সৃষ্টির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও স্বল্প সময়ের মধ্যেই কমে যায়!

বিভিন্ন মাছ বিভিন্ন ধরনের প্রতিকূল পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন সমস্যার মুখামুখি হয় এবং দূর্যোগ পূর্ণ মহামারীর শিকার হয় ।
যেমন;-
– বাতাসের অভাবে সব মাছ খাবি খেতে থাকে;

– পানিতে এ্যামোনিয়ার মাত্রা বেড়ে গেলে শিং, মাগুর, গুলশা ও আইড় এই ধরনের আইশবিহিন মাছ গুলির ত্বক ক্ষতিগ্রস্থ হয় এবং অনুজীব ও ফাঙ্গাস এক সাথেই প্রায় আক্রমন করে বসে;

– এ্যামোনিয়া টক্সিসিটিতে প্রথমেই সিলভার কার্প চক্কর দিয়েই দৌড় দিয়ে উপর দিকে লাফিয়ে উঠেই মারা যায়;

– পানিতে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেশী হলে কাতলা মাছের ফুলকা চুপসে গিয়ে মারা যেতে শুরু করে;

– তীব্র অক্সিজেন স্বল্পতায় সরপুটি ও সিলভার কার্প প্রথমেই মরতে শুরু করে;

– ফাইটোপ্লাংক্টনের বয়স ১২ থেকে ১৫ দিন হয়ে গেলে তেলাপিয়া, সিলভার কার্প এবং শামুক মারা যাওয়া শুরু করে
এরকম অনেক সমস্যাই দেখা দিতে পারে।

তখন চাষীরা মহা বিপাকে পরে যান।

তখন যে যাই বলেন চাষীরা মানসিক দূর্বলতার কারনে “নানা মুনির নানা মতের শিকার হয়ে আম-ছালা সবই হারান”!

এজন্যেই চাষীদেরকে হিসাব করতে হবে যে,
“বিক্রয় কালে মাছের বিদ্যমান মোট ভর” কত হবে?

এবং তাদের ত্যাগ করা মল মূত্র নিয়ন্ত্রনের জন্য গ্রহনকৃত ব্যবস্থা সম্পর্কে চাষীভাইকে সচেতন থেকে প্রথমেই উল্লেখ করা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গুলি নিতে হবে।

তা’ না হলে মনের হিসাব মনে মনেই গিলে খেতে হবে!

ফার্মসএন্ডফার্মার/২০সেপ্টেম্বর২০