মাত্র ৪০ দিনেই এই মুরগির ওজন ১ কেজি

38

প্রাণিজ আমিষের চাহিদা মিটাতে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন জাতের মুরগি। অতিরিক্ত খরচ এড়িয়ে লাভজনক খামার করতে অধিক উৎপাদনশীল উন্নত জাতের মুরগির উৎপাদন বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। তার ই ধারাবাহিকতায় ব্রয়লার মুরগির পাশাপাশি সোনালি মুরগির সৃষ্টি। কিন্তু ইনব্রিডিং সহ নানা কারনে নরমাল সোনালি মুরগির উৎপাদনশীলতায় ভাটি পড়ায় পর্যায়ক্রমে তৈরি হয়েছে ক্ল্যাসিক, হাইব্রিড, সুপার হাইব্রিড নামক নানান জাতের। পাশাপাশি দেশের বাজারের একটা বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে কালার বার্ড নাম অধিক উৎপাদনশীল মুরগি। যা দেখতে অনেক আমাদের দেশি মুরগির মতোই। দেখতে দেশি মুরগির মতো হলেও এর স্বাদ কিন্তু হুবহু দেশি মুরগির মত না হলেও যারা ব্রয়লার মুরগির মাংস খেতে অনাগ্রহী তাদের জন্য কিছুটা হলেও সুস্বাদু হয় বলে জানান সাধারণ ক্রেতারা।এই মুরগির মাংস দেশি মুরগির মাংসের মত অতটা শক্ত না হলেও তা ব্রয়লার মুরগির মাংসের চেয়ে কিছুটা উন্নত।

বাংলাদেশের বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আমিষের চাহিদা পূরণে সর্বদা কাজ করে যাওয়া ইয়ন গ্রুপ অফ ইন্ডাস্ট্রিজ বাজারজাত করছে অধিক উৎপাদনশীল ক্ষমতা সম্পন্ন ইয়ন বর্ণালী নামক হাইব্রিড কালার বার্ড।

ইয়ন বর্ণালী মুরগির বৈশিষ্ট্যঃ
ফ্রান্সের বিখ্যাত ব্রিডার হাবার্ড কোম্পানি থেকে নিয়ে আসা প্যারেন্টস থেকে উন্নতজাতের বর্ণালী চিকস উৎপাদন করা হয়েছে।
অল্প সময়ে অধিক মাংস উৎপাদন ক্ষমতাশীল মুরগি ইয়ন বর্ণালী চিকস।
উন্নত জেনেটিক গুন সম্পন্ন হওয়ায় ইয়ন বর্ণালী চিকসের মৃত্যুহার খুবই কম/নেই বললেই চলে।
ইয়ন বর্ণালী চিকসের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অন্যান্য যেকোনো মুরগির তুলনায় কম বিধায় অপ্রোয়জনীয় কোনো ঔষধ খরচ লাগে না।
ইয়ন বর্ণালী চিকস অল্প সময়ে মাত্র ৩৮-৪১ দিনে বাজারজাত করা যায়।
সঠিক খামার ব্যবস্থাপনা ও গুনগত মানসম্পন্ন ফিড প্রদানে অতি দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং উন্নত এফসিআর পাওয়া যায়।
সঠিক খামার ব্যবস্থাপনায় মাত্র ৩৯-৪১ দিনে ১.৯ থেকে ২.০ এফসিআর পাওয়া সম্ভব।
ইয়ন বর্ণালী চিকস মাত্র ৩৯-৪১ দিনে ২ কেজির ও কম খাদ্য খেয়ে গড়ে প্রায় ১ কেজির মত ওজন আসে।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরাসরি ইয়ন গ্রুপের অফিসার ও ডিলারের মাধ্যমে যেকোনো খামারি ইয়ন বর্ণালী চিকস সংগ্রহ করতে পারে।

ইয়ন বর্ণালী চিকস সম্পর্কে খামারিদের মতামতঃ
দেশের পোল্ট্রি সেক্টরের অন্যতম আতুর ঘর খ্যাত নরসিংদি জেলায় সরেজমিনে গিয়ে ইয়ন বর্ণালী মুরগি পালন করেছেন এমন খামারিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে খামারিরা ইয়নের বর্ণালী মুরগি সম্পর্কে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন।

নরসিংদির রায়পুরায় কবির হোসেন নামক এক খামারি জানান, ইয়নের এই হাইব্রিড সোনালি মুরগির (বর্ণালী চিকস) রেজাল্ট খুব ভাল পাইছি। অল্প দিনে বিক্রি করা যায়, ওজন ও ভাল পাই।” জিজ্ঞেস করলে তিনি আরো বলেন, “এই মুরগি মাত্র ৩৯-৪১ দিনেই আমরা বেচে দেই। ওজন হয় গড়ে ৯৫০ গ্রাম থেকে ১০৫০ গ্রাম। খাদ্য খায় প্রতি হাজারে মাত্র ৩৯-৪০ ব্যাগের মত”

আরেক খামারি মোঃ তাইজুদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “এই বাচ্চার মৃত্যুর হার একেবারে নাই বললেই চলে। আমার খামারে গত ব্যাচে ১২০০ বাচ্চার মধ্যে ২-৪ টা বাচ্চা মারা গেছিল। ৪০ দিনে বিক্রি করেছি ওজন পাইছিলাম গড়ে ৯৫০ গ্রাম। আর কয়েকদিন রাখলে ওজন আরো বেশি আসতো। বাজার ভাল পাইছি তাই বিক্রি করে দিয়েছি”

ইয়ন বর্ণালী চিকস সম্পর্কে ইয়নের টেকনিক্যাল সার্ভিস এক্সিকিউটিভ ডাঃ সজল জানান, “ইয়ন বর্ণালী চিকস সঠিক খামার ব্যবস্থাপনায় ও উন্নতমানের ফিড ব্যবহারে ৪০-৪১ দিনে ১ কেজির কাছাকাছি ওজন আসে। এটি দেখতে বেশ কালারফুল এবং এর মাংসের স্বাদ ও বেশ মুখরোচক। আমরা আশা করছি, খামারিরা এই মুরগি পালনে বেশ ভাল ফলাফল পাবেন এবং আমাদের টেকনিক্যাল টিম খামারিদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে”

কোথায় পাওয়া যাবে ইয়ন বর্ণালী চিকস?
ইয়ন কোম্পানির এই বাহারি রঙ্গের মুরগির বাচ্চা সংগ্রহ করতে আপনার নিকটস্থ ইয়ন গ্রুপের সম্মানিত ডিলার ও সেলস এক্সিকিউটিভের সাথে যোগাযোগ করুন।

ফার্মসএন্ডফার্মার/২৩জুন ২০২২