মুরগির খামারে অ্যামোনিয়া মুক্ত করার সহজ উপায়

160

মুরগির খামারে অ্যামোনিয়ার ক্ষতিকর দিক ও তা দূর করার উপায় খামারিদের মধ্যে অনেকেই জানেন না। দেশে ডিম ও মাংসের চাহিদা পূরণ করতে বর্তমানে অনেকেই মুরগি পালনে ঝুঁকছেন। মুরগির খামার করে অনেক বেকার যুবকও স্বাবলম্বী হয়েছেন। মুরগির খামারের সমস্যাগুলোর মধ্যে অ্যামোনিয়ার সমস্যা অন্যতম। চলুন আজ তাহলে জানবো মুরগির খামারে অ্যামোনিয়ার ক্ষতিকর দিক ও তা দূর করার উপায় সম্পর্কে-

মুরগির খামারে অ্যামোনিয়ার ক্ষতিকর দিক ও তা দূর করার উপায়ঃ
অ্যামোনিয়ার ক্ষতিকর দিকঃ
১। মাত্রাতিরিক্ত অ্যামোনিয়া গ্যাসের কারনে মুরগীর ডিম উৎপাদনের পরিমান কমে যেতে পারে।

২। মুরগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

৩। শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে এ গ্যাস শ্বাসনালীতে গেলে শ্বাসনালীতে ইনজুরি হয়। পরবর্তিতে সেখানে ই. কোলাই ইনফেকশন হতে পারে। যার ফলে এয়ারস্যাকুলাইটিস, নিউমোনিয়া, সেপটিসেমিয়া হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে ফুসফুস ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে মুরগীর পেটে পানি জমতে পারে।

৪। অ্যামোনিয়া গ্যাসের ক্ষতিকর প্রভাব সবচেয়ে বেশী দেখা যায় মুরগীর চোখে। মাত্রাতিরিক্ত গ্যাসের কারনে মুরগীর কনজাংটিভাইটিস, চোখ ফুলে যাওয়া, চোখ লাল হয়ে যাওয়া, চোখ দিতে পানি পড়া, চোখের মনি ঘোলা হয়ে যাওয়া সহ বিভিন্ন চোখের সমস্যা হতে পারে।

৫। অ্যামোনিয়া গ্যাস ইনফেকশিয়াস কোরাইজা সহ বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রীয় ভাইরাল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

৬। খামারে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশী মাত্রায় অ্যামোনিয়া গ্যাস থাকলে মুরগীর খাদ্য গ্রহনের পরিমান কমে যায়। ফলে ওজন বৃদ্ধির হার কমে যেতে পারে। দেখা গেছে যে এক্ষেত্রে মুরগীর ওজন ১৭%-২০% কমে যেতে পারে।

অ্যামোনিয়া দূর করার উপায়ঃ

১। পোল্ট্রি খামারে ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে। এতে অ্যামোনিয়ার সমস্যা অনেকটাই কেটে যাবে।

২। পোল্ট্রি খামারকে অ্যামোনিয়া থেকে রক্ষা করার জন্য খামারে সব সময় যাতে আলো ও বাতাস চলাচল করতে পারে সেই ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৩। খামারের চারদিকে পর্দার ব্যবস্থা রাখতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পর্দা উঠানো ও নামানো যাতে যায় সেই ব্যবস্থাও করতে হবে।

৪। পোল্ট্রি খামারের লিটার নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। আর লিটার যাতে শুকনো থাকে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখতে হবে।

৫। পোল্ট্রি খামারে খাদ্য ও পানির পাত্র সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে। খাদ্য বা পানি মেঝে বা লিটারে পড়লে তা দ্রুত সরিয়ে ফেলতে হবে।

৬। এছাড়াও স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসক বা ভেটেনারিয়ানের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ফার্মসএন্ডফার্মার/ ২৩ আগস্ট ২০২১