যেসব কারণে তিন বারের অধিক কৃত্রিম প্রজনন করা সত্ত্বেও গাভী গর্ভধারণ করতে পারে না

131

গাভীর পুনঃপুনঃ গরম (Repeat Breeding) রোগের কারন লক্ষন চিকিৎসা ও প্রতিরোধ সম্পর্কে ধারনা.

গাভী বা বকনা যদি স্বাভাবিক ইষ্ট্রাস (Estrous) চক্রে বার বার গরম হয় এবং তিন বারের অধিক পাল বা কৃত্রিম প্রজনন করা সত্ত্বেও গর্ভধারন না করে, তখন ঐ গাভীকে রিপিট ব্রিডিং (Repeat Breeding) গাভী বলা হয়। বর্তমান আমাদের দেশের বেশির ভাগ গাভীই এই পুনঃপুনঃ গরম বা ডাকে আসা বা হিটে আসা (Repeat Breeding) এর শিকার।

কারণ
> জরায়ুতে জীবানুর সংক্রমণ হলে।
> Estrous সঠিকভাবে নির্নয় করতে না পারলে।
> সময়মত ও যথাস্থানে Semen স্থাপন না হলে।
> অপর্যাপ্ত ও নিন্মমানের Semen দ্বারা প্রজনন করালে।
> অদক্ষ এ, আই কর্মী দ্বারা প্রজনন করালে।
> যৌন অঙ্গের বিকলঙ্গতা ও অপুষ্টিতে ভুগলে।
> প্রজনন তন্ত্রের বিভিন্ন রোগ, যেমন (Abortion, Anestrum, Infertility, Repeat Breeding, Retained Placenta, Uterine Prolapse, Metritis/Endometritis, Pyometra, Dystocia) থাকলে।
> হরমোনের ভারসাম্যহীনতা ও ওভারিয়ান সিস্ট ইত্যাদি।

লক্ষণ
> জরায়ু থেকে নিশ্রিত মিউকাসের রং অনেক সময় খুব পাতলা ও ঘোলাটে হতে দেখা যাবে।
> যোনী পথে মিউকাসের পরিমান একেবারে কম অথবা খুব বেশি পরিমানে ভাংবে।
> ডাকে আসা সময়কাল খুব কম অথবা অতিদীর্ঘ হতে দেখা যাবে।
> নির্দিষ্ট ঋতুচক্রে গরম হলেও, প্রজনন করালে তা গর্ভধারন করবেনা।
রোগ নির্নয়
> ওভারীতে ফলিকুলার সিস্ট বা লিউটিয়াল সিস্ট বা জরায়ুর সংক্রমন দেখে এ রোগ নির্নয় করা যায়।
> রোগের উল্লেখ্যযোগ্য উপসর্গ ও রোগের ইতিহাস জেনে এই রোগ নির্নয় করা যায়।

চিকিৎসা
> যদি হিটে আসার সময় মিউকাস অতি পাতলা বা ঘোলাটে হয় তাহলে পেনিসিলিন গ্রুপের inj: Pronapen vet 40 lac অথবা অক্সিটেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের inj: Renamycin-100 জরায়ুতে এ. আই টিউবের মাধ্যমে পরপর ৩ দিন ৩০ সিঃসিঃ করে দিলে এ রোগ হতে রক্ষা পাওয়া যায়।

> সিষ্ট হলে, দক্ষ এ. আই. কর্মী দ্বারা সিষ্ট ভেংগে দিয়ে inj: RENASOL AD3E-30ml 10cc করে ৭ দিন পরপর গভীর মাংশে দিলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

> টলডিমফস সোডিয়াম + সায়ানোকোবালামিন গ্রুপের inj: Vitaphos vet 30ml 10cc করে ২ দিন পরপর মাংশে দিন তিন ডোজ।

> এছাড়া অন্য কোন রোগের জন্য গাভী বা বকনা কে ঔষধ না দিয়ে ম্যানেজমেন্ট পরিবর্তন করে গর্ভবতী করা যায়।

প্রতিরোধ
> স্বাস্থ্য সম্মত বাসস্থানে গাভীকে রাখা ও পরিমানমত সুষম খাবার সরবরাহ করা।

> দৈনিক প্রচুর পরিমান কাচা ঘাস ও অবশ্যই শরিষার খৈল কমপক্ষে ৬০০ থেকে ৭০০ মিঃগ্রাঃ খায়াতে হবে।

> গাভীর বাচ্চা হবার ৪০/৪৫ দিন পর কৃমিমুক্ত করে Syr: Easkvit ADE এবং syr: Rena.sel. E 100ml ২০ মিঃলিঃ করে ১০ দিন খাওয়ান।

> বকনার ক্ষেত্রে প্রথম হিট মিস করে কৃমিমুক্ত করুন এবং এডিই ও ই-সেল ২০ মিঃলিঃ করে ১০ দিন খাওয়ান।

> হিটে আসার সময় ১২ থেকে ১৮ ঘন্টার মধ্যে প্রজনন করা এবং পুনরায় ৬ ঘন্টা পর আবার প্রজনন করা।

> প্রজনন করার পর ৫০ মিঃলিঃ ই-সেল এবং ৫ দিন পর আবার ৫০মিঃলিঃ খাওয়ান। বীজ দেওয়ার দিন থেকে ১০ দিন দৈনিক ১০০ মিঃলিঃ Syr: Farovet vet খাওয়ালে ভালো ফল পাবেন।

> প্রজনন করার পর অবশ্যই গাভী বা বকনাকে গোসল করাতে হবে।

> প্রজনন করার ৩০ মিনিট পুর্বে হরমোন ইনজেকশন যেমন (Ovurelin 2.5 ml, Fertazyl 2.5ml, Chorulon-hcg 1 vial) দিয়ে তারপর Semen দেওয়া।

> Semen দেয়ার পর এ. আই কর্মীর হাত দিয়েই Valba তে ৩/৪ সেকেন্ড ম্যাসেজ করা।

> সাস্থ্য সম্মত উপায়ে দক্ষ এ. আই. কর্মীর মাধ্যমে সবল Semen দ্বারা প্রজনন করাতে হবে।

> গর্ভফুল আটকে যাওয়া গাভীকে তিন মাসের আগে প্রজনন না করাই ভালো। সে ক্ষেত্রে পুর্বেই চিকিৎসা দিয়ে রাখতে হবে।

> পরপর তিন বার প্রজনন করেও গর্ভধারন ব্যর্থ হলে ৪র্থ বার বীজ না দিয়ে বিশ্রাম দেওয়া এবং বিশ্রাম চলাকালে চিকিৎসা সম্পন্ন করা।

> ফসফরাস, কপার, কোবাল্ট, মাঙ্গানিজ, সিলেনিয়াম, এবং ভিটামিন এডিই জাতীয় পুষ্টির সরবরাহ নিশ্চিত করুন।

মোঃ রাকিবুল ভূঁইয়া
বিএসএস.
ব্র্যাক এআই এসপি.
তিতাস, কুমিল্লা।

ফার্মসএন্ডফার্মার/২৯জুন২০