যে কারণে মাল্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের

211

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে গ্রিন মাল্টা চাষ শুরু হয়েছে। লাভবান হওয়ায় মাল্টা চাষে আগ্রহ বেড়েছে চাষিদের। বর্তমানে ঐ উপজেলায় মাল্টা চাষ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তিন চাষি। মাল্টা বিক্রি করে তারা এখন বেশ লাভবান।

২০১৭ সাল থেকে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চাষিদের বারি মাল্টা-১ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করে। এ সময় আগ্রহী চাষিদের বিনামূল্যে মাল্টা চারাও প্রদান করা হয়। এখন উপজেলার তিন জায়গায় গ্রিন মাল্টার বাগান গড়ে উঠেছে। রসে ভরা এই গ্রিন মাল্টা অত্যন্ত সুস্বাদু ও সুঘ্রাণযুক্ত। মাল্টা গাছ সারা বছর ফল দেয়।

একাধিক চাষি জানান, একবার মাল্টা গাছের চারা রোপণ করলে এই গাছ বড় হয়ে সারা বছর ফল দেয়। মাল্টা গাছের চারা আর রোপণ করতে হয় না। গাছের বয়স বাড়ার সাথে সাথে ফলনও বাড়তে থাকে।

জুন মাসে ও ফেব্রুয়ারি মাসে বেশি ফল হয় গাছে। ফল গাঢ় সবুজ হয়। বড় আকারের মাল্টা হলদেভাব হলে বুঝা যায় ফলটি পরিপক্ক হয়েছে। বেশি পরিমাণে উৎপাদন পেতে হলে বাগানের চারিদিকে শক্ত ও মজবুত বেষ্টনী দিতে হবে, পরিচর্চা রাখতে হবে সার্বক্ষণিক।

উপজেলা কৃষি অফিস সলুকাবাদ ইউনিয়নের আক্তাপাড়া গ্রামের চাষি সুলতান মিয়াকে গ্রিন মাল্টা গাছের চারা দেয়। তিনি ৪ বছর আগে দেড় কেয়ার জমিতে প্রায় দুইশত মাল্টার চারা রোপণ করেন। রোপণের দুই বছর পর মাল্টা ফল ধরতে শুরু করে ১৭০টি গাছে। ওই সময় থেকে তিনি মাল্টা বিক্রিও শুরু করেন। এ পর্যন্ত চাষি সুলতান মিয়া প্রায় ৫ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন বলে জানান।

গাছ রোপণের পর কিছুদিন উপ-সহাকারী কৃষি কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত খোঁজ-খবর নিয়েছেন। ওই সময় অতি খরায় গাছের কিছুটা ক্ষতি হয়েছিল। পরবর্তীতে সব ঠিক হয়ে যায়। তার উৎপাদিত মাল্টা শহরে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস একই ইউনিয়নের চাষি আব্দুর রবকেও মাল্টা গাছের চারা প্রদান করেছে। সোনাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রব ৪ বছর আগে ১০ শতক জমিতে ৫০টি গাছ রোপণ করেন। তিনি জানান, বাগান ছোট থাকায় মাত্র ২৫ হাজার টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন।

ধনপুর ইউনিয়নের চিনাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ও বিদেশ ফেরত আব্দুর রহমানও গ্রিন মাল্টা চাষ করেছেন। গত দুই বছর আগে থেকে তিনি গ্রিন মাল্টা চাষ শুরু করেন। উপজেলা কৃষি অফিস তাকে বিনামূল্যে ২০০ মাল্টা চারা দেয়। এখন তার বাগানের ১৪০টি গাছে গ্রিন মাল্টা নামের সুস্বাদু ফল ধরেছে এবং পাকা শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিক্রিও হয়েছে কয়েকশত কেজি মাল্টা। তিনি জানান, এ পর্যন্ত অন্তত ৮ লাখ টাকার মাল্টা বিক্রি করেছেন।

সুনামগঞ্জ শহরের একাধিক ফল ব্যবসায়ী জানান, আমরা বাইরে থেকে এনে হলুদ রঙের মাল্টা বিক্রি করি। বেশি করে স্থানীয় উৎপাদিত মাল্টা বিক্রি করার চিন্তায় আছি।

ধনপুর ইউনিয়নের মাছিমপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামছুল আলম বিধু বলেন, আমার ব্লকের অন্তর্ভুক্ত এই মাল্টা বাগানে ভালো উৎপাদনের জন্য প্রতিনিয়ত লক্ষ্য রেখেছি, পরামর্শও দিয়ে আসছি। এখন ভালো ফলন হয়েছে।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) সুনামগঞ্জের বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাকিব বলেন, আমরা বাগানের গাছ থেকে গ্রিন মাল্টা খেয়েছি। নীল পাহাড়ের কাছাকাছি এতো সুন্দর একটি সবুজ মাল্টা বাগান। মন চায় সারাক্ষণ বাগানে বসে থাকি। মাল্টা চাষের উপযোগী মাটি থাকায় এখানকার মাল্টা উৎপাদন ভালো হচ্ছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা মো. নয়ন মিয়া বলেন, চাষি আব্দুর রহমানকে মাল্টা চাষ করার জন্য আমরা ২ বছর আগে চারা দিয়েছি। এর আগে সলুকাবাদ ইউনিয়নের আরও দুইজন চাষিকেও মাল্টা চারা দেয়া হয়েছে। এখন উপজেলার তিন স্থানের বাগানে মাল্টা ধরেছে।

বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা সাবেক কৃষি কর্মকর্তা দীপক কুমার দাস বলেন, আমি যখন ওই উপজেলায় ছিলাম তখনই বিদেশ থেকে ফিরে আসা ধনপুরের চাষি আব্দুর রহমানের এই মাল্টা চাষে আগ্রহ দেখে তাকে ২০০ গ্রিন মাল্টা চারা দেয়া হয়। এর আগে সলুকাবাদ ইউনিয়নের দুই চাষিকে মাল্টা চারা দেয়া হয়েছে।

ফার্মসএন্ডফার্মার/ ০৭ আগস্ট ২০২১