যে ৪টি সবজি বর্ষা মৌসুমে অবশ্যই খাবেন

108

সামনে আসছে বর্ষা মৌসুম। যদিও এখন থেকেই আবহাওয়া পরিবর্তনে এবং কাল বৈশাখীর কারণে পর্যাপ্ত পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণে বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি দেখা দেয়। তাই এই সময় খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের কথা বলেন চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা।
বর্ষা মৌসুমে বেশ কয়েকটি নতুন সবজি বাজারে পাওয়া যায় । তবে বর্ষা মৌসুমে শাক খেতে নিষেধ করেন পুষ্টিবিদরা। কারণ এই সময় শাকের পাতায় ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ হয়। ঠিক এ কারণেই সঠিক সবজি বেছে নেয়ার গুরুত্ব দেন তারা।

জেনে নিন বর্ষা মৌসুমে খাওয়ার উপযোগী কয়েকটি সবজির উপকারিতা:

করলা:

খাদ্যপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম করলা বা উচ্ছের মধ্যে জলীয় অংশ আছে ৯২.২ গ্রাম, আমিষ ২.৫ গ্রাম, শর্করা ৪.৩ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম, আয়রন ১.৮ মিলিগ্রাম, ক্যারোটিন ১৪৫০ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন বি১- ০.০৪ মিলিগ্রাম, ভিটামিন বি২- ০.০২ মিলিগ্রাম, অন্যান্য খনিজ পদার্থ ০.৯ গ্রাম ও খাদ্য-শক্তি ২৮ ক্যালরি। .

করলার উপকারিতা:

১. নিয়মিত তিতা করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে নানান রকমের রোগ বালাই থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। সেই সঙ্গে পাওয়া যায় প্রচুর পুষ্টি উপাদান যা শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। ২. করলা রক্তকে বিশুদ্ধ করে। করলা হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে কারণ করলায় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে আয়রন। নানা রকমের ব্লাড ডিজঅর্ডার যেমন স্ক্যাবিজ, রিং ওয়র্ম-এর সমস্যায় করলা অনেক উপকারী। ৩. করলা এডিনোসিন মনোফসফেট অ্যাকটিভেটেড প্রোটিন কাইনেজ নামক একধরনের এনজাইম বৃদ্ধি করে শরীরের কোষগুলোর চিনি গ্রহণের ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। করলার রস শরীরের কোষের ভিতর গ্লুকোজের বিপাক ক্রিয়াও বাড়িয়ে দেয়। ফলে রক্তের চিনির পরিমাণ কমে যায়। তাই ডায়াবেটিস রোগীরা নিয়মিত করলার রস খেলে উপকার পাবেন। ৪. করলায় আছে প্রচুর পরিমাণে বিটা ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ। দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখতে বিটা ক্যারোটিন খুবই উপকারী। ৫. নিয়মিত করলা খাওয়ার অভ্যাস করলে সর্দি,কাশি, মৌসুমী জ্বর ও অন্যান্য ছোটখাটো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

পটল:

পটলের অনেক উপকারিতা রয়েছে। এতে ভিটামিন এ, ভিটামিন বি ১, ভিটামিন বি ২ ও ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। আয়ুর্বেদে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করা হয়। পটলের স্বাস্থ্য উপকারিতার বিষয়ে জানবো আজ।

পটলের উপকারিতা:

১-এই সবুজ রঙের সবজিটিতে ভালো পরিমাণে ফাইবার থাকে যা খাদ্য হজমে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি গ্যাস্ট্রোইনটেস্টাইনাল সমস্যা সমাধানে এবং লিভারের সাথে সম্পর্কিত সমস্যা সমাধানেও সাহায্য করে।

২-পটলের বীজ এমন একটি স্বাস্থ্যকর বীজ যা কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে এবং মল নির্গমনে সাহায্য করে।

৩-পটলে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকে। তাই ওজন কমানোর জন্য নিশ্চিন্তে পটলের তরকারি খেতে পারেন। এটি পেট ভরা রাখতে ও ক্ষুধা কমাতে সাহায্য করে।

৪-পটলের আরেকটি স্বাস্থ্য উপকারিতা হচ্ছে এটি রক্তকে পরিশোধিত করে। এর ফলে ত্বকের যত্নেও এই সবুজ সবজিটি ভালো কাজ করে।

৫-পটলের ছোট গোলাকার বীচিগুলো কোলেস্টেরল ও ব্লাড সুগারের মাত্রা প্রাকৃতিক-ভাবে কমাতে সাহায্য করে।

৬-ফ্লু নিরাময়ে সাহায্য করে

লাউ:

বর্ষার সময় সেরা ও স্বাস্থ্যকর সবজি বিবেচনা করা হয় লাউকে। এতে দ্রবণীয় ও অদ্রবণীয় রূপে প্রচুর ডায়েটারি আঁশ থাকে। ফলে পরিপাক নালি ভালো থাকে। এ ছাড়া এতে আয়রন, ভিটামিন বি, সি থাকে, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টকে কার্যকরে সাহায্য করে। এ ছাড়া কম ক্যালরির খাবার হিসেবে পেট হালকা রাখে লাউ। লাউয়ে প্রচুর পানি থাকায় দেহের পানির পরিমাণ ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখে এবং ডায়রিয়ায় পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। এতে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকায় দাঁত ও হাড়কে মজবুত করে।

কাঁকরোল:

ক্যাকটাসের মতো রঙিন সবজি কাঁকরোলের নানা গুণ। প্রোটিন, আয়রন ও আঁশে ভরা সবজি এটি। বর্ষার মৌসুমে পেট ঠিক রাখতে কাঁকরোল খুব ভালো সবজি। হজম-প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে তাই এ সময় বেশি করে কাঁকরোল খেতে পারেন। কাঁকরোলে প্রচুর ভিটামিন ও মিনারেল থাকে, যা চোখের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এ ছাড়া এতে কার্বোহাইড্রেট, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও এনজাইম থাকে।

সতর্কতা:
বর্ষার মৌসুমে এসব সবজি কেনার পর অবশ্যই দু-তিনবার ভালো করে ধুয়ে তারপর রান্না করতে হবে। এতে জীবাণু বা কোনো রাসায়নিক থাকলে তা দূর হবে। মনে রাখতে হবে, এ সময় যা খাবেন তা যেন অবশ্যই পরিষ্কার ও জীবাণুমুক্ত হয়। তা না হলে বিপদ। এ সময় বাইরের খাবার বিশেষ করে ফুটপাতের ভাজাপোড়া যতটা পারেন কম খাবেন। তা না হলে পেটের পীড়ায় ভুগতে হতে পারে।

সূত্র: সময় টিভি

ফার্মসএন্ডফার্মার/১৫জুলাই২০