রাজশাহীতে ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে মাঝারি গরু

71

ঈদুল আযহার আর মাত্র দুই দিন বাঁকি। রাজশাহী অঞ্চলের সবচেয়ে বড় হাট সিটি পশুর হাট বেশ জমে উঠেছে। ঈদে কোরবানির পশু কিনতে অনলাইন ও প্রচলিত পশুর হাটে ভিড় করছেন ক্রেতারা।

সাপ্তাহিক রোববার ও বুধবার হাটের দিন হলেও ঈদ উপলক্ষে প্রতিদিনই বসছে হাট। আজ রোববার (১৮ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, কোরবানির পশুর হাটে অপেক্ষাকৃত ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা থাকায় বিক্রি হয়েছে বেশ ভালো দামে। অপরদিকে বাইরের ক্রেতা না আসায় ক্রেতাশূন্য দেখা গেছে মহিষ ও বড় গরুর বাজার। বিক্রেতারা বলছেন, গতবছরের তুলনায় এবার গরুপ্রতি কমপক্ষে ১০ হাজার টাকা কম পাচ্ছেন।

জেলার পবা উপজেলার চর মাজারদিয়ার থেকে গরু বিক্রি করতে এসেছেন শহিদ আলী। ২৫টি গরুর মধ্যে বিক্রি করেছেন ১৯টি। মাঝারি আকারের সাড়ে তিন মণ থেকে ৪ মণের গরু বিক্রি করছেন তিনি। শহিদ এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন, “৪ মণের একটা গরুর দাম আসবে ১ লাখ ২৫ থেকে ৩০ হাজার। গরুর আকার, আকৃতি, সৌন্দর্য দেখে দাম কমবেশি হতে পারে। ৪ মণের গরু আজকের হাটে ১ লাখ ৫ হাজার; ১০ হাজারও বিক্রি হচ্ছে। লাল গরুর দাম ২ পাঁচ হাজার বেশি হয়। হাটে আশেপাশের জেলার ক্রেতা ছাড়া বাইরের পাটি ( পাইকার) আসেননি তেমন। কোরবানিতে মাংসের ওজন হিসেবে দাম ধরেন ক্রেতারা। ২০ হাজার টাকা মণ হিসেব করে গরু বেচাকেনা হচ্ছে।”

কথা হয় মোহনপুর উপজেলার মো: রাব্বিল হকের সাথে। তিনি বলেন, “ চট্টগ্রাম, ঢাকা, খুলনা, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জায়গার ব্যাপারিরা সিটি হাটে আসতেন। এবার তারা আসতে পারেন নি। ১১ টা গরু নিয়ে এসে ৪ টা বিক্রি হয়েছে। সাড়ে তিন মণের একটা গরু ৭০ হাজার টাকা দাম বলছে। আমি নেব ৮৫ হাজার। আশা করছি বিক্রি হবে ভালো দামেই।”

বাজারে বড় গরুর দাম অনেকটাই কম দেখা গেছে। জেলার দামকুড়া উপজেলার মিনারুল ইসলাম হাটে ১২ মণের একটা ষাঁড় গরু নিয়ে এসেছেন। ক্রেতারা দাম বলেছেন ২ লাখ ১০ হাজার। তিনি আড়াই লাখ টাকা হলে বিক্রি করবেন বলে আশাবাদী। মিনারুল এগ্রিকেয়ার২৪.কমকে বলেন,‘ গরুর প্রতিদিন ৫’শ থেকে ৬’শ টাকার খাবার লাগে। আটা, খোল, ভুষি সবকিছুর দাম বেড়েছে। গরুর মাংসের কেজি সেই ৫’শ টাকা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে ঢাকার পাইকাররা আসলে প্রায় ২ লাখ ৭০-৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হতো। এখন আড়াই লাখেও নিতে চাচ্ছে না। পাইকার নাই গরু নিবে কে? স্থানীয়রা তো এতবড়ো গরু কেনেন না।”

রাজশাহী থেকে গরু কিনে ঢাকায় বিক্রি করেন মেসবাহুল হক। এসেছেন নরসিংদী থেকে। গরু কিনেছেন ৮ টি। বাজারে গরুর দাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গতবছরের তুলনায় বড় গরুর দাম কম আছে। মাঝারি গরুর চাহিদা আছে ভালোই। আমি বড় গরু কিনি প্রতিবছরই, ঢাকার গাবতলীতে বড় ভাই আছেন সেখানে বিক্রি করি। ছোট গরুর দাম বলতে পারব না। আমরা যারা এসেছি ৫ মণের গরু ১ লাখ ২৫ থেকে ৩০ হাজার দাম বলছি। ”

এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু জানান, গতবারের মতো এবার বিক্রি নাই। আজ রোববার হাটে প্রচুর গরু উঠেছিল। অনেক গরু ফেরৎ গেছে, বিক্রি হয়নি। ঈদের শেষ হাট হলেও তেমন বিক্রি হয়নি। আজ তিন হাজারের মতো বিক্রি হতে পারে গরু। তবে, মহিষের একটা তথ্য পেয়েছি ২৮০ টা বিক্রি হয়েছে। সব তথ্য এখোনো হাত পাইনি। ঈদের আগ পর্যন্ত প্রতিদিন হাট বসছে।

বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ দফতরের পরিচালক উত্তম কুমার দাস জানান, রাজশাহী বিভাগের আট জেলায় মোট কোরবানিযোগ্য পশু রয়েছে ২৪ লাখ ৮৮ হাজার ১৬০টি। ২৫ হাজার ২৬১ মহিষ, ৭ লাখ ৭৩ হাজার ৯৩২ ছাগল এবং ১৪ লাখ ৪০ ভেড়া। এসব পশুর ২০ শতাংশ অনলাইনে আর বাঁকি ৮০ শতাংশ গরু প্রচলিত হাটে বিক্রি হবে।

ফার্মসএন্ডফার্মার/ ১৯ জুলাই ২০২১