শীতকালীন লেয়ার গ্রোয়ার পালন-ব্যবস্থাপনা

55

শীতকালীন লেয়ার গ্রোয়ার পালন- পর্ব ১

শুরু যাঁর ভাল শেষটাও তাঁর ভাল যায়। লেয়ার পালনের ক্ষেত্রে এ কথা শতভাগ কার্য্যকরী।
ব্রুডিং-
শীতকালে লেয়ার বাচ্চার ব্রুডিং আমাদের দেশের প্রান্তিক খামারিদের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ।খোলা প্রচলিত হাউজে( পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত ঘর নয়) ব্রুডিং করতে হয়-
১. সঠিক তাপমাত্রা ধরে রাখা
২. তাপমাত্রা ধরে রাখতে গিয়ে ঘরে স্বাভাবিক গ্রহনযোগ্য মাত্রার অধিক কার্বন মনো অক্সাইড,কার্বন ডাই অক্সাইড এবং এমোনিয়া জমে যাওয়া।
৩. পরিবেশের তাপমাত্রা কম থাকার কারনে ঘরের তাপ বাইরে চলে যাওয়া
৪. জ্বালানির জন্য অধিক ব্যয়।
৫. আবদ্ধ ঘরে লিটারে ফাংগাস জন্মে যাওয়া এবং ব্রুডার নিমোনিয়ার ঝুঁকি বাড়া।
৬. তাপের জন্য বাচ্চার ব্রুডারের নীচে গাদাগাদি করে বেশিরভাগ সময় বসে থাকার কারনে প্রতিদিনের দরকারী পরিমান খাদ্য এবং পানি না খাওয়া।
৭. ঠান্ডার কারনে বাচ্চা কম নড়াচড়া এবং হাঁটাহাঁটি না করার কারনে পায়ে জড়তা চলে আসা।
৮. প্রয়োজনীয় পরিমাণ খাদ্য না খাওয়ার কারনে সপ্তাহ অনুসারে টার্গেট ওজন না আসাতে দেরিতে উৎপাদন আসার ঝুঁকি।
৯. অপুষ্টিতে ভোগার কারনে অধিক মৃত্যু হার এবং বাচ্চার লেংড়া খোঁড়া হয়ে যাওয়া ।
১০. কক্সিডিওসিসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া।
১১. সিজনাল কারনে রাণীক্ষেত ও বার্ড ফ্লু রোগের ঝুঁকি থাকা।
১২. দীর্ঘদিন বালব দিয়ে ব্রুডিং করার কারনে,পুলেটের হাউজিং টাইমে লাইটিং সিডিউল চালু করলে আলোর উত্তেজনা তেমন কাজ না করার কারনে সহজে পুলেটে ম্যাচুরিটি না আসা।
১৩. প্রোডাকশন শুরুর আগে আগে সঠিক বডি ওয়েট না আসার কারনে লাইটিং সিডিউল চালু করলে ডিম আসা শুরু করলে প্রোলাপ্সে অনেক মুরগির মৃত্যু হওয়া এবং ছোট সাইজের ডিম আসা।
উপরে উল্ল্যেখিত সমস্যা গুলোর শুরু হয় মূলত সঠিকভাবে ব্রুডিং করতে ব্যর্থ হওয়ার কারনে।গরমের সময় অনেকটা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা গেলেও শীতে প্রান্তিক খামারিদের জন্য সঠিক ব্রুডিং করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।
লেয়িং পিরিয়ডে ভাল ডিম উৎপাদন পেতে শীত কালে লেয়ার পুলেটের জন্য সঠিক ব্রুডিং ব্যবস্থাপনা অতিব গুরুত্বপূর্ণ।

পর্ব ২

ভ্যাক্সিন সিডিউলঃ
শীতে পোল্ট্রির ভাইরাস জনিত রোগের প্রকোপ বাড়ে,এ বিষয়ে সবার পর্যবেক্ষন একই।
একটি কার্য্যকরী ভ্যাক্সিন সিডিউল তৈরি করতে গেলে প্রধান বিবেচ্য বিষয় হল স্থানীয় অভিজ্ঞতা, অর্থাৎ বিগত বছরগুলোতে কোন কোন রোগের প্রকোপ সব চেয়ে বেশি ছিল,বছরের কোন কোন সময়ে এ সকল রোগ বার বার খামার আক্রান্ত করেছিল- কত ব্যপকভাবে উক্ত রোগ ঐ এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছিল।
কোন উৎপাদনকারীর ভ্যাক্সিন দেওয়া সত্বেও উক্ত রোগ খামারে এসেছিল।সুনির্দিষ্ট রোগের ভ্যাক্সিন একই উৎপাদনকারীর প্রাইমারি,বুস্টার ও কিল্ড
ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছিল কিনা?
ভ্যাক্সিন পরিবহন,সংরক্ষণ এবং প্রযোগের সময় যথাযথ নিয়ম এবং তাপমাত্রা অনুসরণ করা হয়েছিল কিনা,যে বয়সে যে ভ্যাক্সিন দেওয়ার কথা ছিল ঠিক ঠিক সে বয়সে সঠিক ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছিল কিনা?
যখন ভ্যাক্সিন দেওয়া হয়েছিল সে সময় বার্ড শারিরীকভাবে সুস্থ ছিল কিনা?
এভাবে বিগত বছরের সুনির্দিষ্ট খামার এবং এর আশপাশের এলাকার অন্যান্য খামারে কি কি রোগ হানা দিয়েছিল সে সকল তথ্যের সঠিক ডাটার ভিত্তিতে একজন স্থানীয় অভিজ্ঞ প্রানী চিকিৎসক বা পোল্ট্রি পরামর্শকের পরামর্শে একটি কার্য্যকরী ভ্যাক্সিন সিডিউল বানালে এবং সঠিক বয়সে সঠিক ভ্যাক্সিন যাথাযথ নিয়ম অনুসারে প্রয়োগ করলে একটি পুলেট ব্যাচ ভাইরাস জনিত রোগ থেকে অনেকটাই মূক্ত থাকে।
ভাইরাস জনিত রোগের ক্ষেত্রে ভ্যাক্সিন হল প্রাথমিক সুরক্ষা আসল সুরক্ষা সপ্তাহে সাতদিন, মাসে ত্রিশ দিন বছরে তিন শত পঁয়ষট্টি দিন খামারে সঠিক বায়োসিকিউরিটি ব্যবস্থাপনা অক্ষুন্ন রাখতে হবে।যত ভাল ভাল দামি ভ্যাক্সিন দেওয়া হউক বায়োসিকিউরিটি কার্য্যকরী না থাকলে ভ্যাক্সিনের মাধ্যমে অর্জিত ইমিউনিটি ( রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা) ধরে রাখা যাবে না।
বায়োসিকিউরিটির দূর্বলতা থাকলে আস্তে আস্তে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসে,এক সময় যে কোন ভাইরাস বা ব্যাক্টিরিয়া জনিত রোগে সহজে বার্ড আক্রান্ত হয়।

শীতকালীন লেয়ার গ্রোয়ার পালন- পর্ব ৩
পানি খাদ্য লিটারঃ
শীতকালে লেয়ারের ব্যাচ শুরু করলে গরম কালের তুলনায় অনেক বেশি যত্নশীল হতে হয়,অন্যথায় শীতকালে শুরু করা ব্যাচ নিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
শীতে শুরু করা ব্যাচে প্রধান সমস্যা হল বাচ্চাকে প্রথম দিন থেকে সঠিক পরিমাণে খাদ্য খাওয়ানো আরম্ভ করানো যা গরমের সময় অতটা চ্যালেঞ্জ নয়।

লেয়ার এমনিতেই কম খাবার খায় অন্যদিকে ব্রয়লার বাচ্চা শুরু থেকে দ্রুত খাদ্য খাওয়ায় অভ্যস্থ হয়ে যায় এবং দরকারী পরিমানে খাদ্য খায়।
প্রথম দিন থেকে বাচ্চাকে টার্গেট পরিমানে খাদ্য খাওয়ানো শুরু করাতে পারলে বাচ্চা এই খাদ্য থেকে নিজের দেহে বিপাকীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় শক্তি এবং টিকে থাকার জন্য তাপ উৎপাদন করতে পারে, একবার এই প্রক্রিয়া চালু করতে পারলে শীতে ব্রুডিং এর মাধ্যমে দেওয়া তাপে ঘাটতি থাকলেও চিক গার্ডের ভিতর বাচ্চা স্বাভাবিক মুভমেন্ট করে তাপের জন্য ব্রুডারের নীচে তেমন জড়ো হয় না।
বাচ্চা স্বাভাবিক মুভমেন্ট এ থাকলে অতিরিক্ত খাবার পানি খাবে এবং সপ্তাহ অনুসারে দৈনিক ওজন অর্জন করবে,সঠিক দৈনিক ওজন- যা লেয়ার পুলেটের লেয়িং এ আসা এবং দ্রুত পিক প্রোডাকশন ও দীর্ঘকাল উচ্চহারে ডিম উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রধান নিয়ামক হিসাবে কাজ করে।

শীতকালে লেয়ারে ব্রুডিং এর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খামারীগন যদি বাচ্চাকে প্রয়োজনীয় পরিমানে খাদ্য পানি খাওয়ানোর জন্য সচেষ্ট থাকেন তাহলে তিনি সে ব্যাচ থেকে ভাল ফলাফল আশা করতে পারেন – অন্য একটি বিষয়ও এর সাথে জড়িত তা হল শীতে আরম্ভ করা ব্যাচে দিনের দৈর্ঘ কম থাকে এবং এই ব্যাচে যদি সপ্তাহের চার্ট অনুসারে সঠিক ওজন আসে তাহলে গাইডে নির্দেশিত সপ্তাহে লাইটিং সিডিউল চালু করলে দিনের দৈর্ঘ্য এবং প্রাকৃতিক আলোর তীব্রতা বেশি থাকার কারনে লাইট ইস্টিমুলেশান ভাল হয় এবং দ্রুত পুরো ব্যাচ একসাথে সাবালকত্ব অর্জন করে ও সকল মুরগী এক সাথে ডিম দেওয়া আরম্ভ করে কিন্তু ব্রুডিং এবং গ্রোয়িং পিরিয়ডে যদি সঠিক দৈনিক ওজন না আসে শীতে রেয়ারিং করা পুলেট কম ওজনের জন্য লেয়িং এর শুরুতে প্রাকৃতিক আলোর অধিক তীব্রতার জন্য অধিক সংখ্যায় পুলেট প্রোলাপসের ঝুঁকিতে পড়বে। পরিবেশ নিয়ন্ত্রিত ঘরে( গ্রোয়িং পিরিয়ডে কাল পর্দা থাকে এবং লেয়িং এর শুরুতে কাল পর্দা সরিয়ে নেওয়া হয়) এর প্রভাব কম পড়লেও খোলা ঘরে প্রাকৃতিক এই আলোর তীব্রতার প্রভাব ক্ষতিকারক হয়ে দাঁড়ায়।এ জন্য ভাল ফলাফল পাওয়ার জন্য শীতকালে শুরু করা লেয়ার ফ্লকে সঠিক দৈনিক ওজন অর্জন করানো অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

শীতকালীন লেয়ার গ্রোয়ার পালন- পর্ব ৪
পানি খাদ্য লিটারঃ
শীতকালে বাচ্চার চিক গার্ডে ছাড়ার সময় বা পারলে প্রথম ৩/৪ দিন খাবার পানিকে কুসুম-গরম করে খাওয়ানো উচিৎ,এতে বাচ্চা দীর্ঘ পথ জার্নিতে যে ডি হাইড্রেশানে পড়েছিল তা কেটে উঠতে পারবে- অন্যথায় শীতকালে ঠান্ডা পানি বাচ্চা খাবে না এবং ডি হাইড্রেশানের পরিমান বাড়বে,পানি শুন্যতার কারনে শুরুতেই বাচ্চা পায়ের জোর হারাবে এবং ল্যাংড়া হওয়া আরম্ভ হবে।
লিটার রোদে শুকিয়ে দফায় দফায় শক্তিশালী জীবানু নাশক দিয়ে স্প্রে করে তারপর চিক গার্ডে দিতে হবে- উদ্দেশ্য লিটারের মাধ্যমে যেন কোন ক্ষতিকারক ভাইরাস বা ব্যক্টেরিয়ার সংক্রমণ না ঘটে।লিটার রোদে শুকানোর উদ্দেশ্য যেন ভিজা বা স্যাঁতসেঁতে না থাকে- অধিক আদ্রতা যুক্ত লিটার দ্রুত ছত্রাক জন্মাতে সাহায়্য করে।ব্রুডিং এ ব্যবহার করা লিটারে ছত্রাক জন্মালে সেই ছত্রাক লেয়ার বাচ্চাতে প্রথম সপ্তাহেই ব্রুডার
নিউমোনিয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
ব্রুডার নিউমোনিয়া আক্রান্ত বাচ্চা খুব একটা বাঁচতে দেখা যায় না, এমন হলে একটা ব্যাচ শুরতেই ধাক্কা খায়- দৈনিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়।
শীত কালে ঠান্ডার কারনে বাচ্চা ব্রুডিং পিরিয়ডে পানি কম খায়- সে কারনে দেখা যায় পানির পাত্রে দেওয়া পানি কেউ কেউ ১০/১২ ঘন্টা পর্যন্ত রেখে দেয়- অথচ ছোট বেলায় বাচ্চা পানি বেশি নষ্ট করে,পানিতে লিটার পায়খানা পড়ে পানি দূষিত এবং দ্রুত নোংরা হয়ে যায়। নিয়ম হল ব্রুডিং সময়ে কম কম করে বারে বারে খাদ্য পানি দিতে হয়, না হলে দূষিত হয়ে পানির মাধ্যমে টক্সিসিটিতে বাচ্চা আক্রান্ত হতে পারে। কম বয়সে বাচ্চা বিষ ক্রিয়ার আক্রান্ত হলে দৈনিক বৃদ্ধি থেমে যায়, বিষের প্রভাবে বাচ্চার স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত হয়ে পায়ে লেম নেস বা খোঁড়া ভাব দেখা দেয়, বিষ ক্রিয়া বেশি হলে তেমন দৃশ্যমান লক্ষন ছাড়ই অধিক হারে বাচ্চার মৃত্যু হতে থাকে।
একটি ফার্মে মুরগী তে জীবানু আসে খাদ্য পানি বাতাস লিটার ফার্ম পরিদর্শক এবং খামারে কাজ করা স্টাফদের মাধ্যমে।তাই জীবানু সংক্রমণের এই মাধ্যম গুলো সম্পর্কে একজন সচেতন লেয়ার খামারী কে আগে থেকেই সতর্ক থাকতে হবে।
শীত কালের আবহাওয়ায় এমনিতেই ভাইরাস জনিত রোগের ঝুঁকি বছরের অন্যান্ন সময়ের তুলনায় অধিক থাকে। সে কারনে শীতে বাচ্চা তুললে সঠিক

শীতকালীন লেয়ার গ্রোয়ার পালন- পর্ব ৫
দৈহিক ওজন ব্যবস্থাপনাঃ
সব লাল লেয়ার বাদামী ডিম পাড়ে এবং সাদা লেয়ার সাদা ডিম পাড়ে- জানা কথা নতুন কোন তথ্য নয়। কিন্তু সব লাল মুরগী এক নয় আবার সব সাদা মুরগীও এক রকম নয়।
এদের আলাদা আলাদা বংশ পরিচয় আছে- ভিন্ন ভিন্ন নাম- চরিত্রেও ভিন্নতা আছে।
চরিত্র বলতে জিনগত প্রার্থক্য আছে- জীবন প্রবাহে পুষ্টি চাহিদা এবং দৈহিক বৃদ্ধি,ডিম উৎপাদন ও ভাল ডিম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় আলোক চাহিদা সহ নানান প্যারামিটারে অনেক ভিন্নতা আছে।
কোন একটি লেয়ার ফ্লকে সঠিক সময়ে ডিম পাড়া শুরু করানো, নির্দিষ্ট দিনে পিক প্রোডাকশন আসা এবং পিক প্রোডাকশন দীর্ঘদিন ধরে রাখা ও ফাইনালি সেই ফ্লক থেকে ম্যাক্সিমাম হেন হাউজ প্রোডাকশন পাওয়া নির্ভর করে, এই ফ্লকটি যে জাতের, সেই জাতের সপ্তাহ অনুসারে দৈনিক ওজন অর্জন করার উপর।

শীতকালে ব্রুডিং জনিত সমস্যার কারনে বডি ওয়েট কাংখিত পর্যায়ে রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় – এর ফলে

দেরিতে ম্যাচুরিটি আসে এবং পিক প্রোডাকশন আসতে দেরি হয়।
শীতকালে সঠিক বডি ওয়েট অর্জনের জন্য ব্রুডিং পিরিয়ডে চিক গার্ডের অভ্যন্তরে চাহিদা মত তাপের যোগান দিতে হয়, যেন সঠিক ব্রুডিং তাপমাত্রা বজায় থাকে- সঠিক তাপমাত্রায় বাচ্চা বেশি পরিমানে খাবার খায় এবং দৈনিক বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।
লেয়ার বাচ্চার ছয় সপ্তাহ বয়স শেষ হলে ওজন করে শতভাগ বাচ্চার বডি ওয়েট নিয়ে ওজন অনুসারে দুই বা তিন গ্রেডে ভাগ করে আলাদা আলাদা পেনে বা রুমে আবাসন করতে হয়।

মূল উদ্দেশ্য- যে বাচ্চাগুলোতে গাইড অনুসারে সাপ্তাহিক ছকে ওজন কম আছে সে গুলোকে কাংখিত ওজন না আসা পর্যন্ত ( নূন্যতম ৮ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত) স্টার্টার ফিড খাওয়ানো যেন দ্রুত ওজন আসে, আর যে বাচ্চাগুলোতে ৬ সপ্তাহেই গাইড অনুসারে টার্গেট ওজন এসেছে তাদের পরবর্তী ফিড- ডেভেলপার বা গ্রোয়ার ফিড খাওয়ানো।
একদিনে যেমন সপ্তাহ অনুসারে দৈহিক ওজন অর্জন জরুরি অন্যদিকে যেন আবার গাইডের নির্দেশনা থেকে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি না পায় সেদিকেও নজর দিতে হয়,লেয়ার বাচ্চার গ্রোয়িং পিরিয়ডে ওভার বা আন্ডার ওয়েট কাম্য নয়,বার বার গ্রেডিং করে,গ্রেড অনুসারে সঠিক পরিমানে খাদ্য খাইয়ে ইউনিফর্মিটি সর্বোচ্চ পার্যায়ে রাখতে হবে- যদি খামারি ফ্লকের পিক প্রোডাকশন দীর্ঘায়িত করতে চায়।

শীতকালীন লেয়ার গ্রোয়ার পালন- পর্ব ৬
পুলেটের দৈহিক ওজন ও আলোক ব্যবস্থাপনাঃ
প্রথম দিনের ব্রুডিং থেকে শুরু করে ১৬ সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত নানান ঝক্কি ঝামেলা সামলিয়ে চুড়ান্ত সময় আসে অতি সতর্কতার সহিত লেয়ার পুলেট এর সেকেন্ডারি রিপ্রোডাক্টিভ ওরগান কে (ওভারী এবং ডিম্বনালী) ডিম পাড়ার উপযুক্ত করে তোলার।
পুলেট যদি দৈহিক ওজনে এ বয়সে পিছিয়ে থাকে এবং এমন অবস্থায় কৃত্রিম আলো দেওয়া শুরু করলে ওভারিতে ফলিকুল বা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ডিম গুলো আস্তে আস্তে বড় হওয়া শুরু করবে এবং এক সময় প্রতিদিন একটি করে পূর্ণাঙ্গ ডিমে রূপান্তরিত হবে।
এ সময়ে বড় ঝুঁকি থাকে- যদি বার্ডের ডিম পাড়ার জন্য যে পরিমান বডি ওয়েট থাকার দরকার তার থেকে কম থাকে স্বাভাবিক ভাবে তার ডিম্বনালীও সে ভাবে ডেভেলপ হবে না, এমন পরিস্থিতে আলোর স্টিমুলেশনে ডিম তৈরি হয়ে যখন অপরিপক্ক ডিম্ব নালী দিয়ে ডিম আসতে থাকে পুলেটের এগ বাউন্ড বা ডিম আটকে মৃত্যু হতে পারে অথবা ডিম সহ ডিম্ব নালীর শেষ ভাগ বা জরায়ু বেরিয়ে আসে যাকে আমরা প্রোলাপস বলি।

প্রোলাপ্স বা এগ বাউন্ডে পুলেটের মৃত্যু ঝুঁকি এড়াতে ষোল সপ্তাহ বয়সের মধ্যে সঠিক বডি ওয়েট অর্জন জরুরি। ষোল সপ্তাহ বয়সের পরে পুলেট কে প্রি লেয়ার ফিড খাওয়ানো হয় মূলত বডি ওয়েটে যদি কোন ঘাটতি থাকে তা পরবর্তী ২/৩ সপ্তাহে দ্রুত পরিপূর্ণতা পায়। প্রি লেয়ার ফিডে উচ্চ মাত্রায় প্রোটিন এবং সেকেন্ডারি রিপ্রোডাক্টিভ অরগান দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার জন্য দরকারী ভিটামিন লিনারেলস অধিক পরিমানে থাকে।
যদি ১৭/১৯ সপ্তাহেও পুলেটে কাংখিত ওজন না আসে তাহলেও লাইট সিডিউল চালু করা থেকে বিরত থাকতে হবে যতক্ষন পর্যন্ত ডিম পাড়ার জন্য সঠিক বডি ওয়েট না আসে।
এক্ষেত্রে পুলেটের বয়স বিবেচনায় না নিয়ে দৈনিক ওজন কে বিবেচনায় নিতে হবে। লাইট দেরিতে দেওয়ায় ডিম হয়তো দেরিতে আসবে কিন্তু-
১. লেয়িং পিরিয়ডের শুরুতে প্রোলাপ্স এবং এগ বাউন্ডে পুলেটের মৃত্যু ঝুঁকি কমবে।
২. জরায়ু তে ইনফেকশন এর ঝুঁকি কমবে।
৩. সঠিক বডি ওয়েটে লাইটিং সিডিউল চালু করলে একটু দেরিতে ডিম আসলেও শুরুতেই বড় আকারের ডিম পাওয়া যাবে চুড়ান্ত ভাবে পার হেন হাউজ এগ প্রোডাকশন বেশি পাওয়া যাবে।
শীতকালে পালিত পুলেটের সঠিক বডি ওয়েট অর্জন বাস্তবিকই একটি চ্যালেঞ্জ – এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সঠিক বয়সে আলোক দান কর্মসূচি ও ততোধিক চ্যালেঞ্জিং। একজন দক্ষ খামারী এ সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেই কিন্তু সফল খামারী হয়ে ওঠেন যা দেখে অন্য খামারীগন তাঁকে অনুসরণ করেন।

শীতকালীন লেয়ার গ্রোয়ার পালন- পর্ব ৭
মাইকোপ্লাজমা ও কৃমি দমনঃ
বাংলাদেশে পোল্ট্রি খামারীদের জন্য শীতকাল খামার পরিচালনা করার ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ।একদিকে ভাইরাস জনিত রোগের প্রকোপ অনেক বেড়ে যায় অন্যদিকে মাইকোপ্লাজমার প্রকোপও পাল্লা দিয়ে বাড়ে, সাথে ঘন কুয়াশা এবং পরিবেশে বায়ু চলাচল কম থাকার কারনে ও ঘরের তাপমাত্রা ধরে রাখতে বিশেষ করে রাত্রি বেলায় ঘরে পর্দা দিয়ে রাখার জন্য এমোনিয়া সহ অন্যান্ন ক্ষতিকারক গ্যাসের পরিমান মাত্রাতিরিক্ত হয়।ফলে কোন কারনে মুরগির দেহে মাইকোপ্লাজমার পরিমান বাড়লে সাথে ঘরের গ্যাস এবং ই -কোলাই জনিতে কারনে সাধারণ সর্দিকাশি দিয়ে শুরু হয়ে পুরো ফ্লক সি আর ডি তে আক্রান্ত হতে দেখা যায়।

শীতকালে এমন নাজুক পরিস্থিতির মুখোমুখি না হতে চাইলে স্থানীয় প্রাণী চিকিৎসক বা পোল্ট্রি কনসালটেন্ট এর পরামর্শে যার যার খামারের রোগব্যাধির প্রকোপের বিবেচনায় মাইকোপ্লাজমা নিয়ন্ত্রণের মাসিক ভিত্তিক একটি কার্য্যকরী সিডিউল বানালে এবং সে মোতাবেক অনুসরণ করলে মাইকোপ্লাজমা কে সাব ক্লিনিক্যাল কন্ডিশানে রাখা যায় এবং মাইকোপ্লাজমার অবস্থান থাকলেও রোগ সৃষ্টি করার পর্যায়ে যেতে পারে না।
মাইকোপ্লাজমা আক্রান্ত ফ্লকের ডিম উৎপাদন দ্রুত কমে যায় এবং লেয়ার মুরগী দীর্ঘ দিন ধরে এই রোগে ধুকে ধুকে প্রতিদিন কিছু মরতে থাকে যা একজন লেয়ার খামারীর জন্য কোন ভাবেই কাম্য নয়।

সচেতন লেয়ার খামারী চিকিৎসাকে কখনোই প্রাধান্য দেয় না তিনি রোগ যাতে খামারে আসতে না পারে তাকেই বেশি গুরুত্ব দেন।
লেয়ার মুরগী যেহেতু দীর্ঘ দিন খামারে থাকে তাই কৃমিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে, একবার কৃমি আক্রান্ত হলে কোন সুনির্দিষ্ট দৃশ্যমান লক্ষন ছাড়াই ডিম উৎপাদন কমতে থাকে- কারন হল কৃমি মুরিগীর খাদ্যে ভাগ বসায় এবং খাদ্যনালী তে অবস্থান করে অতি দরকারি পুষ্টি উপাদান গুলো চুষে নেয় এতে মুরগী রক্ত শুন্যতায় এবং পুষ্টিহীনতায় ভুগে এবং দূর্বল হয়ে এক সময় ডিম উৎপাদন দ্রুত কমিয়ে দেয়।
প্রানী চিকিৎসক এর পরামর্শে কৃমি দমনের একটি শাটল প্রোগ্রাম চালু রাখলে কৃমি সারা বছর নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং পিক প্রোডাকশন এর সময় কৃমি জনিত কারনে উৎপাদনে তেমন ব্যাঘাত ঘটে না।

লেখকঃঅঞ্জন মজুমদার (পিপিবি)

ফার্মসএন্ডফার্মার/১৮জানুয়ারি২০২১