১১০ টাকায় নেমেছে ব্রয়লার মুরগি, হতাশা বাড়ছে খামারিদের!

68

দেশের পাইকারী পর্যায়ে আবারও একদফা কমতে শুরু করেছে ব্রয়লার মুরগির দাম। সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় ১০ টাকা দাম কমে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে গড়ে প্রায় ১১০-১১৫ টাকায়। এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম এমন হ্রাস-বৃদ্ধিতে হতাশা বাড়ছে দেশের প্রান্তিক খামারিদের।

গতকাল ২২ জুন ২০২২, বাংলাদেশ পোল্ট্রি খামার রক্ষা জাতীয় পরিষদ (বি.পি.কে.আর.জে.পি) এবং পোল্ট্রি প্রফেশনাল’স বাংলাদেশ(পিপিবি) এর দৈনিক বাজারদর পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, সারাদেশে গড়ে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১১০-১২০ টাকা পর্যন্ত। টাঙ্গাইলে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা দরে। সিলেটে ১১০ টাকা, ময়মনসিংহে ১১০ টাকা, কুমিল্লায় ১১০ টাকা, গাজীপুরে ১১০ টাকা, চট্রগ্রাম ১১০ টাকা, নোয়াখালীতে ১১০ টাকা, কুমিল্লা ১১০ টাকা, বগুড়া ১২০ টাকা ও ফরিদপুরে ১৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। তবে খুচরা বাজারে চড়া দামেই বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের দাম।

কুড়িগ্রামের খামারি রফিক সরদার হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমাদের মতো ছোট খামারিদের জন্য পোল্ট্রি ব্যবসা নয়। খাদ্যে, ঔষধ সহ অন্যান্য জিনিসপত্রে দাম বাড়তি। প্রতিকেজি খাদ্যের দাম পড়ছে ৬০ টাকার উপর। এখন মুরগি যদি বিক্রি করি ১১০ টাকায় তাহলে লাভ কোথায়? বরং লস হচ্ছে প্রায় ২৫-৩০ টাকা। এভাবে লোকসান দিতে দিতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে ঈদের আগে ব্রয়লার মুরগির দাম আর বাড়বে না।

লালমনিরহাটের পোল্ট্রি খামারি খালেদ বলেন, বর্তমানে বস্তা প্রতি খাদ্যের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে । এছাড়াও ভ্যাকসিন ও ঔষধের দামও চড়া ফলে পোল্ট্রি পণ্য উৎপাদনে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও পাইকারী পর্যায়ে মুরগি বিক্রি করতে হচ্ছে ১১০-১২০ টাকারও নিচে। যার ফলে প্রতি কেজি মুরগিতে লোকসান দিতে হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলা ছাড়া আর কোন উপায় থাকবেনা বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

সাভার উলাইল বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী বাবু বলেন, কিছুদিন আগেও আমরা ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৬০-১৭০ টাকায় বিক্রি করেছি। কয়েকদিন ধরে পাইকারিতে দাম কমেছে।

ফার্মসএন্ডফার্মার/২৩জুন ২০২২