৩১ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ বুধবার ১৬ অক্টোবর ২০১৯
Home / কৃষি বিষয়ক / করলার উচ্চ ফলনশীল জাত নির্নয়

করলার উচ্চ ফলনশীল জাত নির্নয়

করলা

করলা তিতা বলে অনেকেই খেতে পছন্দ করেন না। তবে এর ঔষধিগুণ অনেক বেশি। ডায়াবেটিস, চর্মরোগ ও কৃমি সারাতে এগুলো ওস্তাদ সবজি। ভিটামিন ও আয়রন-সমৃদ্ধ এই সবজির অন্যান্য পুষ্টিমূল্যও কম নয়। উচ্ছে ও করলা এ দেশের প্রায় সব জেলাতেই চাষ হয়। আগে শুধু গরমকালে উচ্ছে-করলা উৎপাদিত হলেও এখন জাতের গুণে প্রায় সারা বছরই চাষ করা যায়।

যেগুলো অপেক্ষাকৃত ছোট, গোলাকার, বেশি তিতা, সেগুলোকে বলা হয় উচ্ছে। বড়, লম্বা ও কিছুটা কম তিতা স্বাদের ফলকে বলা হয় করলা। উচ্ছেগাছ ছোট ও কম লতানো হয়। করলাগাছ বেশি লতানো ও লম্বা লতাবিশিষ্ট, পাতাও বড়। উচ্ছে ও করলা তিতা বলে অনেকেই খেতে পছন্দ করেন না। তবে এর ঔষধিমূল্য অনেক বেশি। ডায়াবেটিস, চর্মরোগ ও কৃমি সারাতে এগুলো এক ওস্তাদসবজি। ভিটামিন ও আয়রন-সমৃদ্ধ এই সবজির অন্যান্য পুষ্টিমূল্যও কম নয়।

বারি করলা ২
এটি একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। গাঢ়সবুজ রং ও মাঝারী আকারের (৯৮ গ্রাম)ফল। ফলের গায়ে প্রচুর ছোট ছোট চোখা Wart এবং spine দেখা যায়। গাছপ্রতি গড় ফলের সংখ্যা ৩৮টি এবং গড় ফলন প্রায় ২১.১ টন/হেক্টর।

বারি করলা ৩
এটি একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। গাঢ় সবুজ রং ও মাঝারী আকারের (৯৮ গ্রাম) ফল। ফলের গায়ে প্রচুর ছোট ছোট চোখা Wart এবং দেখা spine যায়। গাছপ্রতি গড় ফলের সংখ্যা ৩৮টি এবং বারি করলা ৩ এটি একটি উচ্চ ফলনশীল জাত। সবুজ রং ও মাঝারী আকারের (৭৭ গ্রাম) ফল। ফলের গায়ে অল্পকিছু ছোট ছোট ভোতা
ধিৎঃ দেখা যায়। গাছপ্রতি ফলের সংখ্যা ৪৫ টি এবং গড় ফলন প্রায় ২১ টন/হেক্টর। গড় ফলন প্রায় ২১.১ টন/হেক্টর।

উৎপাদন প্রযুক্তি
জলবায়ু ও মাটি
উষ্ণ আর্দ্র আবহাওয়ায় করলা ভাল জন্মে। পরিবেশগত ভাবে এটি একটি কষ্ট সহিষ্ণু উদ্ভিদ। মোটামুটি শুষ্ক আবহাওয়ায় এটি জন্মানো যায়, তবে বৃষ্টিপাত- এর জন্য খুব ক্ষতিকর নয়। তবে জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতে পরাগয়ন বিঘ্নিত হতে পারে। তাই শীতের দু’ এক মাস বাদ দিলে বাংলাদেশে বছরের
যেকোন সময় করলা জন্মানো যায়।

উৎপাদন মৌসুম
বছরের যে কোন সময় করলার চাষ সম্ভব হলেও এদেশে প্রধানত খরিফ মৌসুমেই করলার চাষ হয়ে থাকে। ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে যে কোন সময় করলার বীজ বোনা যেতে পারে। কেউ কেউ জানুয়ারি মাসেও বীজ বুনে থাকেন কিন্তু এ সময় তাপমাত্রা কম থাকায় গাছ দ্রুত বাড়তে পারে না, ফলে আগাম ফসল উৎপাদনে তেমন সুবিধা হয় না। পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা করতে পারলে আশাব্যাঞ্জক ফলন পাওয়া যায়।

বীজের হার
করলার জন্য হেক্টরপ্রতি ৬-৭ কেজি বীজের প্রয়োজন হয়।

জমি তৈরি ও বপন পদ্ধতি
খরিফ মৌসুমে করলার জন্য এমন স্থান নির্বাচন করতে হবে যেখানে পানি জমার সম্ভাবনা নেই। বসতবাড়িতে করলার চাষ করতে হলে দু’চারটি মাদায় বীজ বুনে গাছ বেয়ে উঠতে পারে এমন ব্যবস্থা করতে হবে। বাণিজ্যিকভাবে চাষের জন্য প্রথমে সম্পূর্ণ জমি ৪-৫ বার চাষ ও মই দিয়ে প্রস্তুত করে নিতে হয় যাতে শিকড়
সহজেই ছাড়াতে পারে। জমি বড় হলে নিদিষ্ট দূরত্বে নালা কেটে লম্বায় কয়েক ভাগে ভাগ করে নিতে হয়। বেডের প্রশস্ততা হবে ১.০ মিটার এবং দু’ বেডের মাঝে ৬০ সেমি নালা থাকবে। করলার বীজ সরাসরি মাদায় বোনা যেতে পারে। এক্ষেত্রে প্রতি মাদায় কমপক্ষে ২টি বীজ বপন করতে হবে অথবা পলিব্যাগে (১০-১৫ সে.মি) ১৫-২০ দিন বয়সের চারা উৎপাদন করে নেওয়া যেতে পারে।

সারের পরিমাণ
করলা চাষে জৈবসার খুব দরকার। মোট জৈবসারের অর্ধেক জমি চাষের সময় ও বাকি অর্ধেক বীজ বোনা বা চারা লাগানোর ১০ দিন আগে মাদায় দিতে হবে। অন্যান্য সার নিচের ছক অনুযায়ী দিতে হবে।

অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা
চারা লাগানোর থেকে ফল সংগ্রহ পর্যন্ত জমি সবসময় আগাছমুক্ত রাখতে হবে। গাছের গোড়ায় আগাছা থাকলে তা খাদ্যোপাদান ও রস শোষণ করে নেয় বলে আশানুরূপ ফলন পাওয়া যায় না। সেচের পর জমিতে চটা বাঁধলে গাছের শিকড়াঞ্চলে বাতাস চলাচল ব্যহত হয়। কাজেই প্রত্যেক সেচের পর গাছের গোড়ার মাটির চটা ভেঙ্গে দিতে হবে। খরা হলে প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ দিতে হবে। পানির অভাবে প্রাথমিক অবস্থায় চারার বৃদ্ধি বন্ধ হয়, পরবর্তীতে ফুলও ঝরে যায়। চারা ২০-২৫ সেমি উঁচু হতেই ১.০-১.৫ মি উচু মাচা তৈরি করতে হবে।

বাউনি দেয়া
চারা ২০ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়ে গেলে চারার সাথে কাঠি পুঁতে বাউনি দেয়ার ব্যবস্খা করতে হবে। পাশাপাশি মাটি থেকে এক থেকে দেড় মিটার উঁচু করে মাচা তৈরি করতে হবে। যেহেতু বেড ১ মিটার চওড়া, সে জন্য মাচাও অনুরূপ চওড়া রাখলে ভালো হয়। এতে করলা তোলা ও পরিচর্যার কাজ সহজ হয়। বাঁশের শক্ত খুঁটি পুঁতে তার মাথায় জিআই তার, রশি ইত্যাদি বেঁধে খাঁচা তৈরি করে তার উপর দিয়ে পাটকাঠি বা বাঁশের সরু কাঠি ফাঁকা করে বিছিয়ে মাচা তৈরি করা যেতে পারে। মাটিতে লতিয়ে দেয়ার চেয়ে মাচায় লতিয়ে দিলে করলার ফলন ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ বেশি হয়।

ফসল সংগ্রহ
স্ত্রী ফুলের পরাগায়নের ১৫-২০ দিনের মধ্যে ফল খাওয়ার উপযুক্ত হয়। ফল আহরণ একবার শুরু হলে তা দুমাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকে।

ফার্মসএন্ডফার্মার২৪/জেডএইচ

আরও পড়ুন...

তরমুজ

যশোরে বর্ষাকালীন তরমুজ চাষে সফল কৃষক চিত্তরঞ্জন

বৃহত্তর যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার মূলগ্রামের যতীন্দ্র দেবনাথের পূত্র চিত্তরঞ্জন দেবনাথ পেশায় একজন শিক্ষক হলেও …