7 Falgun 1426 বঙ্গাব্দ বুধবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২০
Home / কৃষি ক্যারিয়ার / বাড়িতে নিজেই যেভাবে কেঁচো সার তৈরি করবেন

বাড়িতে নিজেই যেভাবে কেঁচো সার তৈরি করবেন

65902942_2368255633386172_6793308355713564672_n

কেঁচো সাধারণ জৈব পদার্থ খেয়ে যে মল ত্যাগ করে তাহাই কেঁচো সার। কেঁচোর প্রাপ্ত বয়স হলে পনের দিন অন্তর অন্তর ডিম পাড়ে। ডিম ১৮ দিনের মধ্যে পুটে বাচ্চা বের হয়। একটা কেঁচো তার দৈহিক ওজনের দুই গুণ খাদ্য গ্রহণ করে।

কেঁচোর জন্য খাদ্য তৈরির পদ্ধতি

গোবর ২৫/৩০ দিন পঁচাতে হবে কলা গাছ ১৫/২০ দিন পঁচাতে হবে কচুরি সবুজ অংশ। পরিমান গোবর ৭০ কেজি কলা গাছ ২০ কেজি কচুরি ১০ কেজি। পঁচানোর পর আর্দতা কমানোর জন্য ৪/৫ দিন শুকনো যায়গায় রাখতে হবে। তারপর হাউজ বা চাড়ি বা রিং যেভাবেই করেন ওখানে খাদ্য দিয়ে কেঁচো দিয়ে দিবেন। তার পর একটা বস্তা ভিজিয়ে দিয়ে ডেকে দিবেন। কেঁচো সাধারণত অন্ধকার পছন্দ করে। বস্তা শুকিয়ে গেলে পানি চিটিয়ে দিবেন। খাদ্য গুলো ২ দিন পর পর উলোটপালোট করে দিবেন। ৩৫/৪০ দিনের মধ্যে সার হয়ে যাবে।

সার আরোহণ পদ্ধতি

সার উপর থেকে আরোহণ করবেন আর কেঁচোগুলো নিচের দিকে চলে যাবে। সারের সাথে যে কেঁচো উঠে আসবে সেইগুলো আরোহণের পদ্ধতি। আপনি পরবর্তী সময়ে যে খাদ্য দেওয়ার জন্য তৈরি করেছেন ওই খাদ্য দিয়ে হাতে বল বানাবেন ওই বল সারের ভিতর ঢুকিয়ে দিয়ে ৭ দিন রাখবেন ৭ দিন পর বল টা বের করে দেখবেন খাদ্যের জন্য সব কেঁচো বলের ভিতর ঢুকে গেছে তখন ওই বল আপনার হাউজ বা রিংয়ে দিয়ে দিবেন। এই ভাবে দুইবার বল ট্যাপ দিয়ে সার থেকে কেঁচো আরোহণ করবেন।

বাণিজ্যিকভাবে যারা করবেন হাউজ করার পদ্ধতি

ফ্লোর পাকা হতে হবে ফ্লোর থেকে হাই ১৪/১৮ ইঞ্চি পাস ৩ ফিট লাম্বা যত টুকু করতে পারেন। উপরে চাল দিতে হবে যেন বৃষ্টির পানি রোদ না লাগে। ইঁদুর, ব্যাঙ, সাপ, পাখি, মোরগ, হাঁস, পিঁপড়া ও তেলাপোকা যেন ক্ষতি করতে না পারে তাই রিং বা হাউজের চার পাশে নেট দিয়ে দিতে হবে। কখনো গোবরের সাথে ছাই ব্যবহার করা যাবেনা। আপনার বাসার সবজির উচ্ছিষ্ট ব্যবহার করতে পারবেন।

উপরে উল্লেখিত গোবর কলাগাছ ও কচুরিপানার কথা বলা হয়ছে সারের গুনাগুন ভাল হওয়ার জন্য। আপনি এককভাবে গোবর দিয়ে করতে পারবেন। কলাগাছ ব্যবহার করলে কেঁচোর স্বাস্থ্য ভাল থাকে।

মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটি পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণাগারের রাসায়নিক বিশ্লেষণ কেঁচো সারে নিম্মোক্ত পুষ্টিমানের উপস্থিতি পাওয়া যায়।

জৈব পদার্থ ২৮,৩২%
পটাশিয়াম ০,৭৪%
সালফার ০,৭৪%
ম্যাঙ্গনিজ ৭১২ পিপি এম
নাইট্রোজেন ১,৫৭%
ক্যালসিয়াম ২,০০%
আয়রণ ৯৭৫ পিপিএম
জিংক ৪০০ পিপিএম
ফসফরাস ১,২৬%
ম্যাগনেশিয়াম ০,৬৬%
কপার ২০০ পিপিএম
বোরন ০,১৬%

জমিতে চাষের জন্য ১৭ টি উপদান প্রয়োজন তার মধ্যে কেঁচো সার এ ১২ টি উপাদান পাওয়া যায়।

ফার্মসএন্ডফার্মার/১৩ফেব্রু২০২০

আরও পড়ুন...

lychee

লিচু গাছে মুকুল থেকে ফল আসা পর্যন্ত করণীয়

লিচু বাংলাদেশের প্রায় সব অঞ্চলে চাষ হলেও দেশের উত্তরাঞ্চলে বিশেষ করে দিনাজপুর, রংপুর, বৃহত্তর রাজশাহী, …