মুন্সীগঞ্জে শাপলা বিক্রির আয়ে চলছে শতাধিক পরিবার

100

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের আড়িয়ল বিলের শাপলা যাচ্ছে রাজধানী ঢাকায়। বর্ষাকালে আড়িয়ল বিলের বিস্তীর্ণ ধানীচক পানিতে ডুবে যায়। বিস্তীর্ণ চকের এ ডুবো জমিতে এ সময় প্রচুর পরিমাণে শাপলা ফুল ফুটে। এ শাপলা বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি হচ্ছে। তাই প্রতিদিন সকালে সূর্য ওঠার আগেই বিস্তীর্ণ আড়িয়ল বিলে ডিঙি নৌকা নিয়ে শাপলা কুড়াতে বেরিয়ে পড়নে স্থানীয় প্রায় শতাধিক কৃষি শ্রমিক। কুড়ানো শাপলার বিক্রির আয়ে চলছে প্রায় শতাধিক পরিবারের জীবন ও জীবিকা।

ভরা বর্ষা মৌসুমে আড়িয়ল বিলে প্রাকৃতিকভাবেই অসংখ্য শাপলা জš§ায়। এই বিলে জেলেরা মাছ শিকারের পাশাপাশি দিনের কয়েক ঘণ্টা শাপলা কুড়িয়ে আয় করছেন হাজার টাকা। কুড়িয়ে আনা শাপলা স্থানীয়ভাবে সংগ্রহ করে পাইকাররা এসব শাপলা রাজধানী ঢাকার পাইকারির সবজির বাজারগুলোয় বিক্রি করছেন।

প্রতিদিন এ অঞ্চল থেকে অন্তত মাঝারি সাইজের ১০-১২ পিকআপ শাপলা ঢাকায় যাচ্ছে। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার গাদিঘাট, আলমপুর, ষোলঘর, হাঁসাড়া, বাড়ৈখালীসহ আড়িয়ল বিলের বিভিন্ন পয়েন্টে এসব শাপলার পাইকারি বিকিকিনি হচ্ছে। শাপলা সবজি হিসেবে সুস্বাদু হওয়ায় খোলাবাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আড়িয়ল বিল পাড়ের অসংখ্য কর্মহীন কৃষি শ্রমিক বর্ষার সিজনে শাপলা কুড়িয়ে অর্থ উপার্জন করতে পারছেন।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে যায়, আড়িয়ল বিলে এখন বর্ষার পানিতে টইটম্বুর। বিলের বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য শাপলা কুড়িয়ে আনা হচ্ছে স্থানীয় সড়কের পাশে। দেখা গেছে, হাঁসাড়া-বাড়ৈখালী সড়কের আলমপুর, গাদিঘাট বাজার সংলগ্ন সড়কের পাশে নৌকা ভর্তি শাপলার স্তূপ। নৌকা থেকে শাপলার আঁটি গুনে গুনে তোলা হচ্ছে পিকআপ ভ্যানে।

আলমপুর এলাকার সুমন খান, মো. মোশারফ, নুর হোসেন, আমির হোসেন, শাজাহান, দেলোয়ার হোসেন, বলাই রামসহ অনেকেই বলেন, বিলে এখন পানির গভীরতা প্রায় ৬ থেকে ৮ হাত। তবে এ বছর বিলে শাপলার পরিমাণ অনেকাংশ কম। ধারণা করা হচ্ছে, কিছুদিন পরেই শাপলা বাড়বে। আমাদের এলাকায় বর্ষাকালে তেমন কাজ থাকে না। এ সুবাদে বিনা পুঁজিতে শাপলা কুড়িয়ে বিক্রি করছি। এতে একেকজনের ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা কামাই হচ্ছে। কার্তিক মাস পর্যন্ত আড়িয়ল বিলে শাপলা কুড়াবেন তারা।

গাদিঘাটের মো. রুহান, মোয়াজ্জেম, মোশারফ, মো. হোসেন বলেন, এই গ্রামে প্রায় ৫০টি পরিবার শাপলা বিক্রি করে বাড়তি আয় করছে। বিলে মাছ শিকারের পাশাপাশি শাপলা কুড়াচ্ছেন তারা। ৮০টি শাপলায় একেকটি আঁটি বাঁধা হয়েছে। শাপলার আঁটি পাইকারের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ১৬-২০ টাকা।

শাপলার পাইকার চাঁন মিয়া, সেলিম শেখ, মালেক জানান, বিকালে নৌকা থেকে শাপলা সংগ্রহ করে ঢাকার কারওয়ান বাজার, যাত্রাবাড়ী, শ্যামবাজারসহ বিভিন্ন সবজির পাইকারি হাটে নিয়ে এসব শাপলা বিক্রি করা হচ্ছে। বর্ষার মৌসুমে কয়েক মাস শাপলার ব্যবসা করবেন তারা। গ্রামগঞ্জে কিংবা শহরের মানুষের কাছে শাপলা সুস্বাদু সবজি হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।